কোচবিহার: পঞ্চায়েত ভোটকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ আজ, মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে তৃণমূলের জনসংযোগ যাত্রা৷ আগামী দু’মাস ধরে জেলায় জেলায় ঘুরবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই কর্মসূচি থেকেই তৈরি হবে পঞ্চায়েতের প্রার্থী বাছাইয়ের নীল নকশা৷
মঙ্গলবার কোচবিহার জেলার দিনহাটা বিধানসভার অন্তর্গত সাহেবগঞ্জের জনসভা থেকে ‘তৃণমূলে নব জোয়ার’ কর্মসূচির সূচনা করলেন অভিষেক৷ তিনি জানান, আগামী দু’মাস ঘর-বাড়ি, বন্ধুবান্ধব-সংসার ও প্রিয়জনদের ছেড়ে মানুষের সঙ্গে থাকবেন বলেই এসেছেন তিনি৷ জেলায় জেলায় গিয়ে দেখতে চান মানুষ কাকে প্রার্থী করতে চায়৷
অভিষেক বলেন বাংলার উন্নয়ের জন্য পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট দিতে হবে৷ তাঁর কথায়, ‘‘২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সার্বিক উন্নয়নের কথা ভেবে আপনারা কেউ ভোট দেননি। আগামী পঞ্চায়েতে কোনও ধর্মীয় ভাবাবেগ নয়। আপনার বাড়ির শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভোট দিতে হবে।’’ সেই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাসহীন, অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পক্ষেও সওয়াল করেন অভিষেক৷ তিনি বলেন, প্রার্থী কে হবে আপনারা জানান৷ তৃণমূল সর্বশক্তি দিয়ে তাঁকে জিতিয়ে আনার চেষ্টা করবে৷
এদিন সভামঞ্চ থেকে একটি বিশেষ ধরনের ব্যালট পেপার দেখালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘এই ব্যালট পেপার সকলকে দেওয়া হবে। এখানে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রার্থীর নাম জানানো যাবে। এটি গোপান ব্যালট। আপনার নাম বা কিছু থাকবে না। এটি পূরণ করে ব্যালট বক্সে ফেলে দিন। মানুষ যাঁকে মান্যতা দেবে, তৃণমূল তাঁকেই প্রার্থী করে জেতাবে।’’ অভিষেক আরও বলেন, ‘‘বাংলায় ৩৩৪৩টি পঞ্চায়েত রয়েছে। সব জায়গায় আমি যাব। মানুষের পঞ্চায়েত গড়ে ছাড়ব।’’ অভিষেকের দাবি, এহেন উদ্যোগ আমাদের দেশে এই প্রথম। তাঁর কথায়, ‘একশোটি ভোটের মধ্যে যদি ৫১ জন মানুষ বলে আমার অমুক প্রার্থীকে চাই, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকেই প্রার্থী করবে। যাঁরা ব্যালট বক্সে ভোট দিতে পারবেন না, তাঁরা নির্দ্বিধায় ৭৮৮৭৭৭৮৮৭৭ নম্বরে ফোন করে জানান আপনার কাকে পছন্দ। বাড়ি থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম, বুথের নাম ও আসন নম্বর উল্লেখ করে পছন্দের প্রার্থীর নাম জানানো যাবে বলে জানালেন অভিষেক।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন