নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০১৪ সালে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত বারবার খবরের শিরোনামে উঠেছে। এক পক্ষ অপর পক্ষকে ধারাবাহিকভাবে নিশানা করছে। তবে গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গোটা বিষয়টি সম্পূর্ণ অন্য মাত্রা পায়। কেন্দ্র-রাজ্যের সংঘাত নিয়মিত ঘটতে থাকে। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত করতে আসলে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়ে।
একই ভাবে কেন্দ্রীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের তরফ থেকে প্রতিনিধি দল যখন কলকাতায় এল তখন ফের সেই ঘটনা দেখা গেল। কিছুদিন আগেই তিলজলায় সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতন করার পর খুন করা হয়েছে। ঘটনার পরই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা দীর্ঘক্ষণ রেল অবরোধের পাশাপাশি পুলিশের জিপে পর্যন্ত আগুন লাগিয়ে দেয়। এরপরই ঘটনার তদন্ত করতে কলকাতায় আসে কেন্দ্রীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের প্রধান প্রিয়াঙ্ক কানুনগোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। কিন্তু অভিযোগ তাঁদের সঙ্গে রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের তরফ থেকে অসহযোগিতা করা হয়েছে।
তিলজলা থেকে সেই প্রতিনিধি দল চলে যায় মালদায়। কিছুদিন আগেই মালদায় এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। সেই ঘটনা সম্পর্কে জানতে প্রতিনিধি দল শনিবার যায় সেখানে। কিন্তু সেখানেও রাজ্য প্রশাসনের তরফে তাঁদের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে। অর্থাৎ বারবার একই ঘটনা ঘটছে।
প্রশ্ন উঠছে এভাবে কী রাজ্য প্রশাসন কিছু লুকোতে চাইছে? আবাস যোজনা প্রকল্পে বহু অভিযোগ পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল আসার পর তাঁদের সঙ্গে অসহযোগিতা করার অভিযোগ ওঠে। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলছেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এভাবে কেন্দ্রীয় দল পাঠিয়ে রাজ্য সরকারকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করছে দিল্লি। উল্টো দিকে বিরোধীদের অভিযোগ কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল তদন্ত করলে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে যাবে। তাই তাঁদের সঙ্গে বারবার অসহযোগিতা করা হচ্ছে।
তবে কী সত্যিই ডাল মে কুছ কালা হ্যায়? সত্যিই কিছু লুকোতে চাইছে রাজ্য? যে ঘটনা বেরিয়ে এলে ফেস লস হবে রাজ্য সরকারের? এই চর্চা ফের শুরু হয়েছে এই সমস্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু রাজ্য সরকারের যদি সত্যিই কোনও গাফিলতি না থাকে তাহলে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল এসে তদন্ত করলে ক্ষতি কোথায়? কেন তাঁদের সঙ্গে অসহযোগিতা করার অভিযোগ উঠবে? এই সমস্ত প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠতে শুরু করেছে। এর উত্তর কবে পাওয়া যাবে সেটা সময়ই বলবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন