পঞ্চায়েত ভোটের আগেই খুন একের পর এক তৃণমূল নেতা! নেপথ্যে কি ঘাসফুলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব? - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

শনিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৩

পঞ্চায়েত ভোটের আগেই খুন একের পর এক তৃণমূল নেতা! নেপথ্যে কি ঘাসফুলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব?




হাঁসখালি:  পঞ্চায়েত নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। গ্রাম বাংলার স্বাধীন সরকার নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণভাবে হবে তা নিয়ে শঙ্কিত রাজ্যবাসী। কারণ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হওয়ায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। কিন্তু তার আগেই শাসকদলের একের পর এক নেতা খুন হয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর অনুযায়ী গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই এই সমস্ত খুনের ঘটনা ঘটছে। যে তালিকা শেষ সংযোজন হাঁসখালির ঘটনা।

শুক্রবার সকালে নদিয়ার হাঁসখালির ছোট চুপড়িয়ার বাজারের কাছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হয়েছেন আমোদ আলি বিশ্বাস নামে এক ছিল মোর নেতা। তিনি হাঁসখালি থানার অন্তর্গত রামনগর বড় চুপড়িয়ার  তৃণমূলের অঞ্চল সহ-সভাপতি ছিলেন। একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎই সেখানে মোটরবাইকে করে কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা বেশ কয়েকজন এসে আমোদকে গুলি করে। এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে তারা। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তৃণমূল নেতা। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।‌ স্থানীয়রা তড়িঘড়ি ওই ব্যক্তিকে বগুলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আমোদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ভরা বাজারের মধ্যে যেভাবে তিনি খুন হয়ে গেলেন তাতে প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে। মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ ওই অঞ্চলের এক তৃণমূল নেতার মদতে তাঁর স্বামীকে খুন হতে হয়েছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।



এই প্রথম নয়, এর আগে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। কিছুদিন আগেই বর্ধমান পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ও তার অনুগামীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দলীয় বিধায়ক ও অন্যান্য নেতার বিরুদ্ধে। নতুন প্রশাসক মন্ডলীকে কেন্দ্র করেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়া উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় পঞ্চায়েতের প্রার্থী সংক্রান্ত বৈঠকের পর তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে একাধিক নেতা-কর্মীকে প্রকাশ্যে খুন হতে দেখা গিয়েছে। ঘটনার দিন তৃণমূলের দু'দলের কর্মীরা একে অপরকে গুলি ছোঁড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ এবং প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। আসলে এলাকার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নিয়েই যত সমস্যা। আর শাসক দলের নেতা-কর্মীরাই মূলত এই গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল পুলিশ প্রশাসন এভাবেই কী নির্বিকার হয়ে থাকবে? তাদের কাছে আগাম কোনও খবরই কী থাকছে না?


মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সময়ে বারবার বলেছেন পুলিশকে বোমা-গুলি-পিস্তল উদ্ধার করতে হবে। কিন্তু তারপরেও দুষ্কৃতীদের হাতে আকছার পিস্তল, বোমা দেখা যাচ্ছে। অতীতে বহুবার বাংলা রক্তক্ষয়ী পঞ্চায়েত নির্বাচন দেখেছে। এবারেও কি পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে প্রবল অশান্তি দেখা যাবে? আরও রক্ত ঝরবে? এই আশঙ্কা কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন থেকেই প্রশাসন যদি শক্ত হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা না করে তাহলে আরও বড় ঘটনা ঘটে যেতে পারে জেলায় জেলায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন