কলকাতা: নিখোঁজ বাবা৷ দু’দুটি থানায় তেমনই অভিযোগ দায়ের করেছেন ছেলে৷ সেই খবরেই তোলপাড় রাজ্যরাজনীতি৷ হবে নাই বা কেন? বাবার নাম যে মুকুল রায়৷ আর ছেলে শুভ্রাংশু রায়৷ চারিদিকে যখন খোঁজ খোঁজ, তখন মিলল মুকুলের সন্ধান৷ সবার অলক্ষে চুপিসারে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন নয়াদিল্লি৷ সে নিয়েই এখন টানটান উত্তেজনা রাজনৈতিক মহলে৷ এতক্ষণে সেই খবর পৌঁছে গিয়েছে ছেলে শুভ্রাংশুর কাছেও৷
পুলিশের কাছে শুভ্রাংশু দাবি করেছিলেন, হঠাৎ করেই ‘বেপাত্তা’ তাঁর বাবা। তবে দিল্লির রাজনৈতিক বৃত্তে যাঁদের কারবার, তাঁদের একাংশ বলছে, ‘বেপাত্তা’ নন, নিজের ইচ্ছাতেই সোমবার সন্ধ্যার বিমান ধরে কলকাতা থেকে রাজধানী পৌঁছেছেন কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক মুকুল। কারও কারও দাবি, তিনি চিকিৎসা করাতে দিল্লি গিয়েছেন। অন্য একটা অংশের মতে আবার তাঁর দিল্লি-যাত্রা নিছকই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ফের বিজেপিতে ফিরে যাবেন তৃণমূলের মুকুল? ছেলেকে না জানিয়ে আচমকা অসুস্থ শরীরে মুকুলের দিল্লি-যাত্রা তাৎপর্যপূর্ণ বৈকি৷
তাঁর ঘনিষ্ঠমহল জানাচ্ছে, বিশেষ কারণে তিনি রাজধানীতে এসেছেন। কিন্তু সেই বিশেষ কারণ কী? সেটা কেউই খোলসা করেননি। তাঁকে নিয়ে যখন জল্পনার পারদ তুঙ্গে তখন ঠিক কী বলেছেন মুকুল রায়? দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর রাতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক। তিনি কেন দিল্লি এসেছেন তা জানতে চাওয়া হয়৷ যদিও এক কোনও স্পষ্ট জবাব তিনি দেননি। শুধু বলেন, ‘এমনিই এসেছি। দিল্লিতে কি আসতে পারি না? আমি তো একসময় এমপি ছিলাম। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন থাকব।’
তিনি এমনি এসেছেন বললেও তাঁর এই সফর নিয়ে কিন্তু রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর ১১ জুন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন মুকুল ও তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু। কিন্তু তিনি বিধায়ক পদ ছাড়েননি৷ পুরনো দলে তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি৷ এরই মধ্যে তাঁর এই দিল্লি সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন