কলকাতা: মুঠো ফোনের জমানা৷ ৮ থেকে ৮০, সকলেই বুঁদ মোবাইল ফোনের দুনিয়ায়৷ ইন্টারনেটের দৌলতে সর্বক্ষণের সঙ্গী ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, নেনফ্লিক্স-এর মতো গুচ্ছ অ্যাপস৷ অনলাইন কেনাকাটা করাটা তো এখন ট্রেন্ড৷ অথচ আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে এমনটা ছিল না৷ মুঠোফোনের অর্থ ছিল শুধুই চলভাষ৷
সাল ১৯৭৩! মটরওলা কোম্পানিতে কর্মরত জনৈক ইঞ্জিনিয়ার মার্টিন কুপার-এর হাতেই প্রথম আত্মপ্রকাশ করে মোবাইল ফোন। শুনলে হয়তো অবাক হবেন, সেই সময় একটা মোবাইলের ওজন ছিল ২ কেজিরও বেশি। সেই ফোনে সারা দিনে মাত্র ২৫ মিনিট কথা বলা যেত৷ বর্তমান দিনে যা কল্পনাও করা যায় না৷ ডিজিটাল দুনিয়ায় এখান মানুষের হাতে বন্দি স্মার্ট স্লিক হালকা ফোন, সঙ্গে দুরন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ৷ সেখানে ২৫ মিনিটের ব্যাটারি যুক্ত ২ কিলোর ফোন শুনে অনেকেরই চোখ কপালে উঠবে। এই ৫০ আমুল পরিবর্তন এসেছে মুঠোফোনের জগতে।
বছর দশেক আগেও আমরা কি-প্যাড ফোনেই স্বচ্ছন্দ্য ছিলাম৷ যেখানে ফোনে কথা বলা ছাড়া একটু-আধটু এসএমএস আর টুকটাক গেম খেলা- ব্যস ওইটুকুই৷ কোথায় তখন সোশ্যাল মিডিয়ার দৌরাত্ম। সেই সময় মানুষের হাতে অনেক সময় থাকত৷ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, মর্নিং ওয়াক কিংবা ইভিনিং ওয়াকে যাওয়া৷ অনেক বেশি সোশ্যাল ছিল মানুষ৷ তবে সময় পাল্টেছে৷ পাল্টেছে অভ্যাস৷ এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণ কিন্তু আমাদের হাতে ধরা সেই মুঠোফোন৷ রাস্তায়-ঘাটে, মেট্রোয়, বাসে যেখানেই যান, দেখতে পাবেন ৯০ শতাংশ মানুষই স্মার্ট ফোনে ব্যস্ত। ফোন নিয়ে মানুষ এতটাই মগ্ন যে, রাস্তা পার হওয়ার সময়েও পুরোপুরি ফোন থেকে চোখ সরে না। সম্প্রতি মোবাইল ফোনের জনক মার্টিন কুপার একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, এই বিষয়টা রীতিমতো আতঙ্কের৷ মানুষ এখন ফোন দেখতে দেখতে রাস্তা পার হচ্ছে। এমনকী নিজের নাতি-নাতনীদের স্মার্টফোনের অত্যধিক ব্যবহার দেখেও তিনি বেশ বিরক্ত৷
তবে সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে৷ ওই সমীক্ষার দাবি করা হয়েছে, অনেক মানুষই এখন পুরোনো তথাকথিত আনস্মার্ট বা কিপ্যাড ফোন হাতে তুলে নিতে চাইছেন৷ তাঁরা সাবেকিয়ানায় ফিরতে চাইছেন নস্টালজিক ফ্যাক্টরের জন্য। মানুষ অনেক বেশি ঝুঁকছে ফোল্ড ফোনের দিকে। বিশেষ করে যাদের বয়স ৩০ থেকে ৪০-এর মধ্যে, তাঁদের মধ্যে মানসিকতায় পরিবর্তন আসছে৷ তারা আবার পুরনো কিপ্যাড ফোনকেই আঁকড়ে ধরতে চাইছে৷ আর এই ট্রেন্ডকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ফোন প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি ফোল্ড ফোন তৈরি করা শুরু করেছে।
মোট ৩২০০ জনের উপর এই সমীক্ষাটি চালানো হয়৷ তাঁরা সকলেই আপাতত ফোল্ড ফোন ব্যবহার করছেন। তাদের মধ্যে ৩৪ % মানুষের দাবি, তাঁরা আনস্মার্ট ফোন ব্যবহার করছেন যাতে একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে পারেন৷ স্মার্টফোনের ভয়ঙ্কর আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন তাঁরা। ৩২% মানুষ জানাচ্ছেন, তাঁরা পুরনো দিনের ফোন ব্যবহার করছেন, কারণ তাঁদের বন্ধুরাও এটা ব্যবহার করেন। ১৮% মানুষের কথায়, তাঁদের ফোন হারিয়ে গিয়েছে৷ তাই এই ফোন ব্যবহার করছেন। বাকি ১৪% মানুষ বলছেন, স্মার্ট ফোনের এত দাম যে, তাঁরা ফোল্ড ফোনকেই বেছে নিয়েছেন৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন