জনসংযোগ নাকি দলীয় কর্মী সংযোগ! অভিষেকের যাত্রা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন! - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৩

জনসংযোগ নাকি দলীয় কর্মী সংযোগ! অভিষেকের যাত্রা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন!

 


কলকাতা: শুরু হয়ে গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন কর্মসূচি 'তৃণমূলে নবজোয়ার'। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের নেতৃত্বে এই নতুন কর্মসূচি রাজ্য রাজনীতিতে অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী তালিকা ঠিক করবে বলে জানিয়েছেন অভিষেক। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত এই জনসংযোগ কর্মসূচিতে সামিল হবেন অভিষেক, যা চলবে দু'মাস ধরে। অভিষেকের বক্তব্য অনুযায়ী তৃণমূলের বুথ স্তরের নেতা-কর্মীরা গোপনে ভোট দিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করবেন। আর সেই সূত্রেই অভিষেকের দাবি সাধারণ মানুষ এভাবেই নিজেদের প্রার্থীকে বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু তিনি যে দাবি করছেন তা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে। এ সম্পর্কে তিনি কি বলেছেন তা আগে দেখে নেওয়া যাক। অভিষেকের কথায়, "এমন একটা কর্মসূচি ভারতবর্ষে কেউ কোনও দিন করেনি। আমরা বারবার বলি রক্তপাতহীন নির্বাচনের কথা। কিন্তু সেটা তখনই সম্ভব যখন ভাল মানুষকে আমরা নির্বাচিত করতে সক্ষম হব। যাতে ভাল মানুষ উঠে আসেন তার জন্য আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। মানুষের নেতা কে হবেন, সেটা মানুষ ঠিক করবেন। কোনও বন্ধ ঘরে সেই আলোচনা হবে না।''



তিনি আরও বলেছেন, ''ভারতবর্ষে এই প্রথমবার মানুষকে প্রার্থী বেছে নেওয়ার অধিকার দিচ্ছি আমরা। আমরা বলছি শুধু নিজের ভোট নিজে দেওয়া নয়, নিজের প্রার্থীও নিজে বাছুন। এই কর্মসূচির যে অভিনবত্ব রয়েছে তা আগামী দিনে ভারতবর্ষকে পথ দেখাবে।" তাই অভিষেক যে দাবি করেছেন তাতে এই প্রশ্ন উঠছে যে, প্রার্থী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোট দেবেন তৃণমূলের বুথ স্তরের নেতাকর্মীরা। তাহলে সেখানে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিজেদের প্রার্থী বেছে নিতে পারছেন? তাই বিরোধীদের কটাক্ষ, এটা একেবারেই জনসংযোগ অভিযান নয়। বলা ভাল তৃণমূলে কর্মীদের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ ঘটাচ্ছেন  অভিষেক। এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন," এটা সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন কর্মসূচি। মানুষের কাজ করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে আন্দোলন করছে তার সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি ঘোষিত কর্মসূচি।" 


এই দু'মাস ধরে অভিষেক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। তাঁদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করবেন। এছাড়া প্রচুর জনসভাও করবেন। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে যে কর্মসূচিতে অভিষেক সামিল হয়েছেন তাতে তিনি ক্যারাভানে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করবেন। তাই সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি কতটা সময় কাটাতে পারবেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।  কর্মসূচির গতিবিধি সম্পর্কে যেটুকু জানা যাচ্ছে তাতে এটাই স্পষ্ট হচ্ছে যে, দলের কর্মী সমর্থকদের কাছে গিয়ে তাঁদের মূল্যবান মতামত শুনবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন অভিষেক। তাই এই কর্মসূচিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বললে ভুল বলা হবে। এটা পুরোপুরি তৃণমূল কেন্দ্রিক কর্মসূচি বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে। তাই 'তৃণমূলে নবজোয়ার' কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের কতটা সাড়া পাওয়া যাবে সেটা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন