নিজস্ব প্রতিনিধি: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে অয়ন শীল গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই নিত্যনতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। শুধু লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষক-শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ করা নয়, যোগ্য প্রার্থীদেরও বঞ্চিত করেছেন অয়ন। চাকরি পেয়েও টাকা না দেওয়ায় কাজ করতে পারেননি পুরসভার এক মহিলা কর্মী, এমন অভিযোগও উঠেছে। বিভিন্ন পুরসভায় পেছনের দরজা দিয়ে চাকরি দিয়ে কয়েক কোটি টাকা ঘরে তুলেছেন অয়ন। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, গুণধর অয়নের হাত যে কতদূর লম্বা ইডি সূত্রে সে খবর সামনে এসেছে। তাতে জানা যাচ্ছে অয়ন শীলের এক সংস্থার নামে চুঁচুড়া থানার অন্তর্গত পিপুলপাতি এলাকায় একটি বহুতল আবাসেনের ফ্ল্যাটে একটা সময় ভাড়া নিয়ে থাকতেন রাজ্য পুলিশের আইজি মর্যাদার এক অফিসার। ওই ফ্ল্যাটটি অয়ন শীলের একটি সংস্থার নামে রয়েছে। ইডি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বর্তমানে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন রাজ্য পুলিশের ডিআইজি পদের অন্য এক অফিসার। তবে কী রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই ওঠাবসা ছিল অয়নের? অয়নের মাথায় অত্যন্ত প্রভাবশালীদের হাত ছিল বলেই এতদিন তাঁকে কেউ ছুঁতে পারেনি? এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে।
এর আগে দেখা গিয়েছিল ওএমআর শিট বা উত্তরপত্র কারসাজি করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল নীলাদ্রি দাসের। কয়েক বছর আগে তাঁকে সিআইডি প্রতারণার অভিযোগ গ্রেফতার করলেও প্রমাণের অভাবে তিনি ছাড়া পেয়ে যান। তখনই প্রশ্ন ওঠে সিআইডি তথা রাজ্য পুলিশের বড়কর্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ থাকার কারণেই কি নীলাদ্রি ছাড়া পেয়ে গিয়েছিলেন? এবার একই ভাবে অয়নকে নিয়েও এমন চর্চা শুরু হয়েছে।
এতদিন জানা যাচ্ছিল রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে অয়নের বহুদিন ধরেই যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু এবার জানা যাচ্ছে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে অয়নের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল। তাই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে বিভিন্ন দুর্নীতি কাণ্ডে পুলিশকর্তাদের একাংশের মদত ছিল বলেই আজ এত বড় বিষবৃক্ষ ফলতে দেখা যাচ্ছে। তাই দুর্নীতির শিকড় কত দূর পর্যন্ত যে বিস্তৃত, আদৌ তার সন্ধান পাওয়া যাবে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। তবে কি অয়ন বা নীলাদ্রির মত আরও অনেকে আত্মগোপন করে রয়েছেন? দুর্নীতির পাণ্ডারা নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন? কীভাবে তাঁদের খোঁজ পাওয়া যাবে? অযোগ্য প্রার্থীদের কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে চাকরি হয়েছে। আর যোগ্যরা রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অবস্থান করছেন বা ধর্না দিচ্ছেন। সেখানে অয়ন বা নীলাদ্রির মত ব্যক্তিরা এতদিন প্রভাবশালীদের খুশি করে পালিয়ে বেরিয়েছেন। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? অয়ন, নীলাদ্রিরা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জালে ধরা পড়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের এক শ্রেণির কর্তারা কী ধরা পড়বেন না? এর উত্তর জানতে চায় রাজ্যবাসী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন