নিজস্ব প্রতিনিধি: অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে চিনের উস্কানি অব্যাহত। দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে লালফৌজ। এই পরিস্থিতিতে দু'দিনের অরুণাচল সফরে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। চিন সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। সদ্য অরুণাচলের বেশ কিছু অঞ্চলের চিনা নাম প্রকাশ করেছে বেজিং। যে ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। এমনকী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত জানিয়েছে যে অঞ্চলগুলি চিন তাদের বলে দাবি করছে সেগুলি ভারতেরই অন্তর্গত। এই আবহের মধ্যে শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে সীমান্ত রাজ্যগুলির প্রত্যন্ত গ্রামগুলির উন্নয়নের জন্য 'ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম' প্রকল্পের আওতায় ৪৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। যার মধ্যে ২৫০০ কোটি টাকা সড়ক উন্নয়নে খরচ করা হবে। জানা গিয়েছে অরুণাচল প্রদেশের পাশাপাশি সিকিম, উত্তরাখন্ড এবং হিমাচল প্রদেশের ১৯টি জেলার ৪৬ টি ব্লকের ২৯৬৭টি গ্রামকে এ ব্যাপারে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই প্রকল্পেরই উদ্বোধন করতে অরুণাচল যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর সেখানে প্রকল্পের উদ্বোধনের পর চিনকে তিনি কি বার্তা দেন তা নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেজিংকে যে কড়া বার্তা দেবেন সেটা বোঝাই যাচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দফতরের প্রেস সেক্রেটারি কিছুদিন আগেই চিনকে তোপ দেগেছেন। তিনি বলেছেন, "চিন ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটাই চিরকাল জেনে এসেছে যে ওই এলাকা (অরুণাচল প্রদেশ) আসলে ভারতেরই অংশ। কোনও শক্তি যদি একতরফা ভাবে ওই এলাকার নামকরণ করে সেটিকে দখল করার চেষ্টা করে, তবে তার তীব্র বিরোধিতা করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা এ কথা বলে আসছি।"
বহুদিন ধরেই চিন দাবি করে আসছে অরুণাচল নাকি তাদের অংশ। যার তীব্র বিরোধিতা করছে ভারত। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের ১১টি অঞ্চলের নতুন ভাবে নামকরণ করে নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে চিন। চিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রীতিমতো বিবৃতি প্রকাশ করে দাবি করেছে ওই অঞ্চলটি তিব্বতের দক্ষিণের ঝানগান প্রদেশের অংশ। দুটি ভূমি অঞ্চল, পাঁচটি পর্বত শৃঙ্গ, দুটি নদী এবং দুটি আবাসিক এলাকা মিলিয়ে ১১টি অঞ্চলের নামকরণ করেছে চিন। উল্লেখ্য অরুণাচল প্রদেশকে ঝানগান প্রদেশ বলেই উল্লেখ করে থাকে চিন। তাই ফের এই বিষয়টি সামনে আসতেই নয়াদিল্লি কড়া বিবৃতি জারি করে বলে, "আগেও এমন আচরণ করেছে চিন। আমরা ওদের এই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করছি৷"
কিন্তু বেজিং তখন পাল্টা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সেই সিদ্ধান্ত তারা নিতেই পারে। এই পরিস্থিতিতে বেজিংয়ের এই দাবির বিরোধিতা করে ভারতের পাশে দাঁড়াল আমেরিকা। আর এই আবহের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অরুণাচল সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন