কলকাতা: অস্বিত্বকর গরম৷ চামড়ায় একেবারে জ্বলুনি ধরছে৷ ঘামে প্যাঁচপ্যাঁচে শরীর৷ অনেকেরই এ সময় ডিহাইড্রেশনের সমস্যা তৈরি হয়৷ হাইড্রেশন মিনারেল নষ্ট হতে থাকে৷ এই সময় শরীর সুস্থ রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার পরমার্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা৷ তবে সব সময় শুধু জল খেতে ভালো লাগে না৷ সেই সময় খাওয়া যেতে পারে বিভিন্ন শরবত৷ যা পুষ্টিগুণেও ভরপুর৷ কিংবা শরীর শীতল রাখতে খেতে পারেন বিশেষ কিছু খাবার৷ যা গরমে অত্যন্ত উপকারী৷ চলুন দেখা যাক-
লেবুর শরবত: একগ্লাস জলে আধখানা পাতি লেবুর রস, এক চিমটে নুন আর এক চামচ চিনি দিয়ে তৈরি করে ফেলুন সুস্বাদু লেবুর শরবত৷ এক চুমুকেই শরীর হবে ঠাণ্ডা। লেবুর শরবত বানাতে সামান্যই উপকরণ লাগে। যা বাড়িতেই মজুত থাকে৷ লেবু বা চিনি না থাকলে, বাতাসা দিয়েও জলপান করা যেতে পারে৷
লস্যি: গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে লস্যির জুড়ি মেলা ভার৷ সুগারের রোগীরাও কিন্তু স্বাদ নিতে পারেন এই শরবতের৷ ৫০ গ্রাম দই, এক চিমটে নুন, সামান্য চাট মশলা ও গন্ধরাজ লেবুর রস একগ্লাস জলে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে পান করুন। মন জুড়িয়ে যাবে। শরীর হবে শীতল৷ শুধু সুগারের রোগীরাই নয়, সুস্থ মানুষও এভাবে পান করতে পারেন লস্যি। তাঁরা সঙ্গে এক চামচ চিনিও যোগ করতে পারেন৷
ছাতুর শরবত: প্রখর রৌদ্রে এক ফালি মেঘের মতো শান্তি দিতে পারে ছাতুর শরবত। এক গ্লাস জলে দুই থেকে চার চামচ ছাতু, এক চিমটে নুন, এক চামচ চিনি মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন এই শরবত। যা প্রোটিন আর ফাইবারে পরিপূর্ণ৷ ছাতু পেটও ভরাবে। আবার এনার্জিও দেবে। ডায়াবেটিকরা চিনি ছাড়াও ছাতুর শরবত খেতে পারেন৷
পান্তা ভাত: হাঁসফাঁস করা গরমে কোনও কিছুই খেতে মন চায় না৷ এমন সময় মেনুতে রাখতে পারেন পান্তা ভাত৷ ভাতের মধ্যে জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন রাতভর৷ পরের দিন লবণ, কাঁচালঙ্কা, কাঁচা পিঁয়াজ সহকারে সেরে ফেলুন দুপুরের আহার৷ গেঁজে যাওয়ার কারণে পান্তায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১২৷ এছাড়াও পান্তায় থাকে ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রনের মতো উপকারী খনিজ পদার্থ। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী৷ হজমও হয় চটজলদি, ত্বকের জন্যেও ভালো। সর্বোপরী পান্তার খেলে মিলতে পারে নিশ্ছিদ্র ঘুমের সন্ধান। পান্তাভাত শরীরে জলের জোগানও বজায় রাখে। ফলে ডায়ারিয়া বা ডিহাইড্রেশন হওয়ার সুযোগ কমে যায়৷
কার্ড রাইস: বাঙালিরা সকলেই দই ভাতের সঙ্গে পরিচিত৷ এর মধ্যে বিশেষ কোনও মশলা যোগ করার রেওয়াজ বাংলায় নেই। তবে দক্ষিণ ভারতীয় কার্ড রাইস কিছুটা আলাদা৷ এতে সামান্য হলেও মশলা থাকে। চাইলে আপনিও সহজে বাড়িতে কার্ড রাইস করতে পারেন। ভাতের মধ্যে দই যোগ করার পর তার সঙ্গে মিশিয়ে নিন সামান্য চাট মশলা আর স্বাদমতো নুন৷ চাইলে একবার মিক্সিতে ঘুরিয়েও নিতে পারেন। এতে ভাতের একেবারে মিহি হয়ে যাবে।
এবার কড়াইয়ে সামান্য তেল দিয়ে তার মধ্যে একচামচ গোটা সর্ষে, শুকনো বা কাঁচালঙ্কা আর কারিপাতা দিয়ে ভালো করে ভেজে নিন। তার পর সেই মশলা দই ভাতের উপর ছড়িয়ে দিন। পেট ঠান্ডা রাখতে দারুন উপকারী এই কার্ড রাইস। ছোট বড় সকলেই এটা খেতে পারেন৷
এছাড়াও গরমে খেতে পারেন কাঁচা আম দিয়ে বানানো টক ডাল, সর্ষে ফোড়ন দিয়ে কাঁচা আমের ঝোল, পাঁচ রকম সবজি দিয়ে স্যুপ৷ এই সময় বেশি করে পাতে রাখুন সজনে ডাঁটা, সজনে ফুলের তরকারি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন