প্রবল গরম থেকে বাঁচতে স্কুল বন্ধ না করে বিকল্প উপায় কী ভাবা যেত না? উঠছে নানান প্রশ্ন৷ - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

বুধবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৩

প্রবল গরম থেকে বাঁচতে স্কুল বন্ধ না করে বিকল্প উপায় কী ভাবা যেত না? উঠছে নানান প্রশ্ন৷


কলকাতা:  তীব্র গরম, আর তাতেই বাজল ছুটির ঘণ্টা! স্কুলগুলিতে চলতি সপ্তাহে ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। এ বছর চৈত্র মাসের গরম হার মানিয়ে দিয়েছে অতীতের বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠকে। তীব্র গরমে ওষ্ঠাগত প্রাণ। এই অবস্থায় সোমবার থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দুই পাহাড়ি জেলা দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ে যেহেতু এতটা গরম নেই, তাই সেখানকার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথারীতি আগের মতোই খোলা থাকবে।


এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ''সোমবার থেকে সরকারি, বেসরকারি স্কুলে ছুটি ঘোষণা  করতে বলেছি। মানুষের স্বার্থে একটা ব্যবস্থা করতে হবে। সোম থেকে শনি সব সরকারি, এবং বেসরকারি স্কুল-কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন করছি ছুটি দিতে।''


এরপরই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরেই পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি জেলাতে গরম মারাত্মক আকার নিচ্ছে। তার জেরে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে পঠন-পাঠন। স্কুল ছুটির বাইরে রাজ্য সরকার অন্য কিছু ভাবতে পারছে না কেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিকল্প পথ দেখাতেই পারতেন গোটা দেশকে। যেমন মুম্বইতে পিছিয়ে পড়া মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য বহুদিন ধরেই নৈশকালীন স্কুল চালু হয়েছে। গোটা মহারাষ্ট্র জুড়ে এই ধরনের দেড়শোটি স্কুল চলছে। সেখানে দিনের স্কুল শেষ হওয়ার পর রাত সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত লেখাপড়া করছেন মহিলারা। কারণ সারাদিন ঘরে-বাইরে কাজের জন্য তাঁরা লেখাপড়ার সুযোগ পান না। তাই শুধুমাত্র গরমের দিনগুলিতে পশ্চিমবঙ্গেও এমন সান্ধ্যকালীন স্কুল অনায়াসে চালু করা যেতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। আর সেটা তো সারা বছরের জন্য করতে হচ্ছে না। শুধু গরমের দিনগুলিতে যদি সপ্তাহে তিনদিনও এভাবে সন্ধ্যায় স্কুল চালু করা হয়, বা স্কুলের সময় এগিয়ে ভোর থেকে করে দেওয়া হয়, তাহলে তো আর ব্যাঘাত ঘটবে না পঠন-পাঠনে।


সেক্ষেত্রে গরম থেকে অনেকটাই রেহাই পাবে ছাত্র-ছাত্রীরা। এ ব্যাপারে বাংলা কী দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে না? বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী বলে থাকেন তাঁরা যা করছেন সেটা গোটা দেশ অনুসরণ করছে। তাই গরমের সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের রেহাই দিয়ে পঠন-পাঠন মোটের উপর স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে নেওয়া যায় কীভাবে, সেই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নতুন ধারা তো দেখাতেই পারেন। উল্লেখ গত বছরেও  প্রবল গরমের সময় ভোর থেকে স্কুল করার ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনায় বসেছিল শিক্ষা দফতর। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আগেভাগে গরমের ছুটি ঘোষণা করেই দায় সেরেছিল রাজ্য সরকার। এবারও সেই পথেই হাঁটল রাজ্য। নতুনভাবে কিছু চিন্তা করতে পারল না রাজ্য প্রশাসন। তাই অতীতের মতো চেনা ছকেই ছুটি ঘোষণা করে দিল রাজ্য সরকার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন