ডিএ আন্দোলন এবার দিল্লির যন্তরমন্তরে, চাপ আরও বাড়ছে রাজ্যের? - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩

ডিএ আন্দোলন এবার দিল্লির যন্তরমন্তরে, চাপ আরও বাড়ছে রাজ্যের?



নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গের ডিএ আন্দোলন অন্য মাত্রা পেতে চলেছে। যা আগে কখনও প্রত্যক্ষ করেনি রাজ্যবাসী। আন্দোলনকে যেভাবে উচ্চগ্রামে নিয়ে গিয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা, তা নজিরবিহীন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে ধর্মতলার শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বহুদিন ধরেই আন্দোলন করছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের অন্যতম সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। এবার দিল্লির যন্তরমন্তরে ধর্নায় বসতে চলেছেন তাঁরা। এ ব্যাপারে দিল্লি পুলিশের অনুমতিও পেয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীরা ১০ এবং ১১ এপ্রিল যন্তরমন্তরে ধর্নায় বসবেন। সর্বাধিক পাঁচশো জন সেই কর্মসূচিতে সামিল হতে পারবেন বলে জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ধর্মতলায় যেভাবে আন্দোলন চলছে তাতে প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল সরকার। যত দিন যাচ্ছে ততই ভিড় বাড়ছে ডিএ আন্দোলনকারীদের মঞ্চে। আর যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ কিছুদিন আগেই জানিয়েছিলেন নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে তাঁরা সাক্ষাৎ করবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে। সেই সঙ্গে উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গেও তাঁরা সাক্ষাৎ করতে চান বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই তাঁরা সাক্ষাতের জন্য সময় পেয়েছেন বলে খবর। এর পাশাপাশি আন্দোলনকে অন্য মাত্রা দেওয়ার জন্য তাঁরা দিল্লির যন্তরমন্তরে ধর্নায় বসার জন্য দিল্লি পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন। আর সেটি নিয়েই এবার সবুজ সংকেত মিলেছে। 

 

চলতি মাসের ১১ তারিখ সুপ্রিম কোর্টে ডিএ ইস্যুতে শুনানি রয়েছে। এর আগে একাধিকবার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছে শীর্ষ আদালতে। তাই ১১ এপ্রিল শুনানি হলে সেদিন কিন্তু দিল্লিতেই ধর্নায় থাকবেন আন্দোলনকারীরা। এ প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে সন্দীপ ঘোষ বলেন, "দাবি আদায়ের জন্য দিল্লিতে ধর্না দিতে যাচ্ছি। বিভিন্ন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা দাবি মতো ডিএ পেলেও শুধুমাত্র বঞ্চিত পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা। আমাদের কথা রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের জানাতে যাচ্ছি৷"


পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা কতটা বঞ্চিত দিল্লিতে দু'দিন ধর্না কর্মসূচির মাধ্যমে এই ছবিই তুলে ধরতে চান আন্দোলনকারীরা। আসলে তৃণমূল সরকারকে আরও চাপে ফেলার জন্যই এই কৌশল নিয়েছেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা দাবির পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারি কর্মচারীরা অতীতে বহু আন্দোলন করেছেন। কিন্তু সেই সমস্ত আন্দোলন সেভাবে রেখাপাত করতে পারেনি। আন্দোলন কখন শুরু হয়েছে এবং কখনই বা শেষ হয়েছে, তার খেয়াল সেভাবে কেউই রাখেননি। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্যতম সংগঠন যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের সদস্যরা যেভাবে অনশন আন্দোলনের মাধ্যমে রাজ্যের উপর চাপ সৃষ্টি করেছেন, তা সকলেরই নজর কেড়ে নিয়েছে। দু'বার তাঁরা 'পেন ডাউন' কর্মসূচি পালন করেছেন। সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন না করলে ডিউটিতে না যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা। শুধু তাই নয় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বৈঠক হওয়ার কথাও রয়েছে। অর্থাৎ তৃণমূল সরকার একেবারেই স্বস্তিতে নেই। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে যন্তরমন্তরের ধর্না কর্মসূচির প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেয় কিনা এখন সেটাই দেখার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন