যোগ্যদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের চাকরি বিক্রির ‘নায়ক’ অয়ন! নেপথ্যে আরও কার? - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

রবিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৩

যোগ্যদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের চাকরি বিক্রির ‘নায়ক’ অয়ন! নেপথ্যে আরও কার?





নিজস্ব প্রতিনিধি: গুণধর অয়ন শীল বেশ কিছুদিন ধরেই ইডির কব্জায় রয়েছেন। আর তাঁকে জেরা করে যে সমস্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে এটা স্পষ্ট নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের শিকড় অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। ‌ সেখানে বহু রাজা-রানির পাশাপাশি রয়েছেন গোলামরাও।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ধৃত অয়ন শীলকে জেরা করে পাওয়া যাচ্ছে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য। শনিবার আদালতে অয়নকে তোলার পর ইডি'র আইনজীবী দাবি করেন অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দিতে এক এজেন্টকে ২৬ কোটি টাকা দিয়েছিলেন অয়ন।  ইডির ধারণা সেই বিপুল অঙ্কের টাকা কোনও প্রভাবশালী সরকারি আধিকারিকের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে যোগ্য প্রার্থীদের বিশেষ কৌশলের সাহায্যে চাকরি থেকে বঞ্চিতও করা হয়েছিল অয়নের নির্দেশে, এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

অয়নের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় যে সমস্ত পরীক্ষার্থী সঠিক উত্তর দিয়েছিলেন তাঁদের উত্তরপত্রেও কারচুপি করে চাকরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। অর্থাৎ যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পেতে দেওয়া হয়নি। কীভাবে তা সম্ভব হয়েছিল?  উত্তরপত্রে সঠিক অপশনের পাশাপাশি ভুল উত্তরের অপশনেও 'টিক' চিহ্ন দিয়ে দেওয়া হতো। তাই সঠিক উত্তরে পরীক্ষার্থীরা 'টিক' দিলেও আরেকটি 'টিক' চিহ্ন দেওয়ার ফলে সেই প্রশ্নটিতে কোনও নম্বরই তাঁরা পাননি। এভাবেই সমস্ত উত্তরপত্রটিকে বাতিল করে দিতেন একশ্রেণির কর্মীরা। অয়নের নির্দেশেই এই কাজ করা হতো বলে ইডি নিশ্চিত। অর্থাৎ লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যোগ্যদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করেছিলেন অয়ন। অর্থাৎ যারা টাকা না দিয়ে নিজেদের মেধার উপর ভরসা রেখে পরীক্ষা দিয়েছিলেন চাকরি পাওয়ার আশায়, তাঁদেরকে এই জঘন্য উপায়ে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই, অয়নের মতো একজন প্রোমোটারের পক্ষে এত বড় দুর্নীতি করা কী সম্ভব হয়েছিল? এক কথায় এর উত্তর হচ্ছে না। সেখানে নিশ্চিতভাবে যুক্ত ছিলেন সরকারি আধিকারিকদের অনেকেই, এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। আর সেই চক্রের খোঁজ করতেই ব্যস্ত তাঁরা। অর্থাৎ একদিকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। আবার যোগ্যদের 'ওএমআর' শিট অর্থাৎ উত্তরপত্র নষ্ট করে দিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেওয়া হয়েছে অয়ন ও তাঁর সঙ্গীদের মদতে। এতেই বোঝা যায় অয়নের দুর্নীতির গাছের ডালপালা কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষাকর্তা। তাই যোগ্যদের উত্তরপত্র যেভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল সেখানে কে বা কারা জড়িত সেই নামগুলি কি এবার সামনে আসবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সবাই। এই জঘন্য কাণ্ড যে বা যারা ঘটিয়েছেন তাঁদের মুখোশ খুলে যাক, এটাই চাইছেন সাধারণ মানুষ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন