অনুব্রতর সঙ্গেও জীবনকৃষ্ণের যোগ! আরও দুর্নীতিতে যুক্ত তৃণমূল বিধায়ক? - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৩

অনুব্রতর সঙ্গেও জীবনকৃষ্ণের যোগ! আরও দুর্নীতিতে যুক্ত তৃণমূল বিধায়ক?



নিজস্ব প্রতিনিধি:  তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা গ্রেফতার হওয়ার পরই একটাই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেটা হল এবার কে বা কারা? ইতিমধ্যেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদের নাম তুলে ধরে বলেছেন এবার নাকি তাঁদেরও ডাকা হবে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়। যথারীতি তৃণমূল সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঘটনা প্রবাহ যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে কিন্তু সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সূত্রের খবর সদ্য গ্রেফতার হওয়া জীবনকৃষ্ণকে জেরা করে ইতিমধ্যেই ৮ থেকে ১০ জন তৃণমূল বিধায়কের নাম তদন্তকারী আধিকারিকরা পেয়েছেন, যাদের সঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের যোগাযোগ রয়েছে। আর এই বিষয়টি ভাবাচ্ছে তৃণমূলকে। সব চেয়ে বড় কথা যেভাবে নিজের মোবাইল ফোন দুটি পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে চেয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ, তাতে তিনি অন্যায় করেছেন এটাই তো প্রমাণিত হয়। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গেও জীবনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে বীরভূমে প্রচুর সম্পত্তি কিনেছিলেন জীবনকৃষ্ণ। তদন্তকারীদের ধারণা নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে জড়িয়ে যেভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করেছিলেন জীবন, তা দিয়েই সম্পত্তিগুলি কেনা হয়েছিল। 


জানা গিয়েছে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই চালচলন বদলে যেতে শুরু করেছিল জীবনকৃষ্ণের। অত্যন্ত ধনী পরিবারের সন্তান হয়েও অসদুপায়ে টাকা উপার্জনের দিকে তিনি ঝুঁকে পড়েছিলেন বলে এলাকায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। যে বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত জীবনের বাবাও।


উল্লেখ্য একটা সময় তৃণমূল বিধায়কের প্রভাব প্রতিপত্তি এতটাই বেড়ে যায় যে তাঁর বাবাও তাকে ভয় পেয়ে সমীহ করে চলতেন। এমনটাই অভিযোগ করেছেন তৃণমূল বিধায়কের বাবা বিশ্বনাথ সাহা। তবে জীবনকৃষ্ণ গ্রেফতার হতেই তাঁর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ উগরে দিয়েছেন তিনি। মুর্শিদাবাদের আন্দির যে বাড়িতে জীবনকৃষ্ণ থাকতেন, সেটি তাঁর বলে দাবি করেছেন বিশ্বনাথ। তাঁর অভিযোগ ছেলের ভয়ে নিজের বাড়িতেও যেতে পারতেন না। পেশায় ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ থাকেন বীরভূমের সাঁইথিয়ায়। ব্যবসার জন্য প্রতি সপ্তাহে একবার করে মুর্শিদাবাদে যেতে হতো। তাই আন্দিতে একটি বাড়ি করেছিলেন। কিন্তু সেই বাড়িটি জীবনকৃষ্ণ দখল করে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ছেলের ভয়ে আদালতেও যেতে পারেননি বলে বিশ্বনাথ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে মরব নাকি! পাওয়ারে আছে। তবে এবার হব৷" 

 

অর্থাৎ ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পর কিছুটা ভয় কেটে যাওয়ায় এবার আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন তিনি। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন জীবনকৃষ্ণের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি ক্ষোভ ও হতাশার সুরে বলেন, '‘ওর গ্রেফতারের কথা শুনে আমার কিছু মনে হয়নি। আমার মনে কোনও দুঃখ নেই। ও আমার ক্ষতি করেছে। সাত দিন আগেও আমাকে খারাপ কথা বলেছে। এত ঝামেলা কি সহ্য করতে পারি? আমি একটা বাড়ি কিনেছিলাম। এত অত্যাচার করল যে বিক্রি করে দিতে হল। এমনই মানসিক অত্যাচার করত।’’ এর পাশাপাশি ছেলের বিপুল সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ও কোথায় কী কিনেছে, আমরা তো জানি না। এখন শুনছি এবং অবাক হচ্ছি। যা করেছে ও করেছে, আমাদের ও সবের দায় নেই।’’ ছেলের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে এভাবেই তার দায় ঝেড়ে ফেলে দিয়েছেন জীবনকৃষ্ণের বাবা। সব মিলিয়ে ঘটনাপ্রবাহের জেরে বেশ অস্বস্তি বেড়েছে তৃণমূলের। তাই জীবনকে জেরা করে আগামী দিনে শাসক দলের আরও নেতানেত্রীর দিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা হাত বাড়ান কিনা এবং সেটাই দেখার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন