বারাসত: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে দিনের পর দিন সহবাস করার পর অন্যত্র বিয়ের ফন্দি এঁটেছিল যুবক৷ অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করতেও যাচ্ছিল সে। এমন সময় খবর পেয়েই নদীয়া থেকে সোজা গোপালনগর থানায় এসে হাজির হন প্রতারিত প্রেমিকা। পুলিশের পায়ে পড়ে তরুণীর কাতর আর্জি, ‘স্যর আমায় বাঁচান। আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করতে যাচ্ছে ও’। তরুণীর এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিয়ের দিন অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করল পুলিস। এই ঘটনায় শোরগোল গোপালনগর থানার অন্তর্গত গরিবপুর হাটতলা এলাকা।
ধৃত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ সাধুখাঁ। গ্রেফতার করার পর মঙ্গলবার তাকে বনগাঁ আদালতে তোলা হয়৷ বিচারক তাঁকে ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রায় আট বছর ধরে নদীয়া জেলার বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বিশ্বজিৎ নামে ওই যুবকের। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার সহবাসও করে সে৷ সম্প্রতি পুরনো সেই সম্পর্ক ভেঙে নতুন পথে পা বাড়ায় বিশ্বজিৎ৷ সোমবার নদীয়ার চাকদহের এক তরুণীর সঙ্গে ছিল তাঁর বিয়ে। খবরটা প্রেমিকার কানে পৌঁছতে দেরি হয়নি৷ বিষয়টি জানতে পেরেই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন৷ পুলিশকে গোটা বিষয়টি খুলে বলেন। তাঁর অভিযোগ পেয়ে দেরি করেনি পুলিশও৷ তড়িঘড়ি গোপালনগর থানার পুলিশ প্রতারক প্রেমিকের বাড়িতে হানা দেয়। তখন বাড়িতে বিয়ের ধুমধান৷ আত্মীয়-স্বজন ভর্তি। ভেসে আসছে সানাইয়ের সুর৷ সকালে গায়ে হলুদও হয়ে গিয়েছে। এমন সময় বিশ্বজিৎকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে।
বিয়ে বাড়ি থেকে বহু বরকে পুলিশ তুলে নিয়ে যেতেই মুহূর্তে ভেস্তে যায় আনন্দ। খবর পৌঁছয় কনের বাড়িতেও। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, প্রতারিত তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই বিশ্বজিতকে গ্রেফতার করে হয়েছে৷ ঘণ্টাখানেক বাদেই চাকদহের উদ্দেশে রওনা দিত সে। পুলিশের জেরায় বিশ্বজিৎ অভিযোগের স্বীকার করে নিয়েছে৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন