নয়াদিল্লি: রাজ্য তথা কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যাকে বলে বিগ ব্রেকিং নিউজ! জাতীয় দলের তকমা হারাল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের পাশাপাশি বামফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল সিপিআই এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপি'ও জাতীয় দলের মর্যাদা হারাল। সেখানে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ) জাতীয় দলের মর্যাদা পেয়েছে। সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন এ খবর জানিয়েছে। উল্লেখ্য গত বছরের জুলাই মাসে তৃণমূল, এনসিপি ও সিপিআই'কে চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে আভাস দিয়েছিল। এছাড়া গত সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে কর্ণাটক হাইকোর্ট একটি নির্দেশে জানায় এ ব্যাপারে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে হবে। সেই মোতাবেক সোমবার নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।
জাতীয় দলের মর্যাদা পাওয়ার ব্যাপারে কি আইন রয়েছে? ১৯৬৮ সালের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী জাতীয় দল হতে গেলে তিনটি শর্তের অন্তত একটি পূরণ করতে হয় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে। প্রথম শর্ত অনুযায়ী লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অন্তত চারটি রাজ্য থেকে ৬ শতাংশ ভোট পেতে হবে। দ্বিতীয়ত লোকসভায় ৩টি রাজ্য থেকে অন্তত ১১টি আসন (মোট আসনের ২ শতাংশ) জিততে হবে এবং আগের জেতা আসনের অন্তত চারটি পুনরায় জিততে হবে। আর তৃতীয় শর্ত অনুযায়ী অন্তত চারটি রাজ্যে ‘রাজ্য দলের’ তকমা পেতে হবে। আর এই তিনটি শর্তের একটিও পূরণ করতে পারেনি তৃণমূল। তাই তাদের জাতীয় দলের তকমা চলে গেল। অন্যদিকে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয় শর্তটি পূরণ করতে পেরেছে আপ। কোনও রাজ্যে ‘রাজ্য দলের’ তকমা পেতে গেলে সেখানকার বিধানসভা নির্বাচনে ৬ শতাংশ ভোট এবং ২টি আসন পেলেই চলে। দিল্লি এবং পাঞ্জাবে ক্ষমতায় রয়েছে আপ। এছাড়া আপ গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গোয়ার বিধানসভা ভোটেও ৬ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল। জয়লাভ করে দুটি আসনেও। আর সেই কারণেই জাতীয় দলের মর্যাদা পেল তারা।
প্রসঙ্গত জাতীয় দল বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা পায়। জাতীয় দলের চিহ্নকে দেশের অন্য কোনও রাজ্যে অন্য কোনও দল ব্যবহার করতে পারবে না। এছাড়া দলীয় দফতর তৈরি করার জন্য সরকারের থেকে জমি বা বাড়ি পায় জাতীয় দলগুলি। এর পাশাপাশি জাতীয় দল সর্বাধিক ৪০ জন ‘তারকা প্রচারক’ ব্যবহার করতে পারে। সেখানে যারা জাতীয় দল নয় তারা সর্বাধিক ২০ জন তারকা প্রচারক ব্যবহার করতে পারে। এবার থেকে সেই সুবিধা পাবে আম আদমি পার্টি।
তাই এখন প্রশ্ন উঠছে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেবেন কি আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল? এমনিতেই স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে তাঁর। দিল্লি এবং পাঞ্জাবে ক্ষমতা দখলের পাশাপাশি গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার লড়তে নেমেই যথেষ্ট ছাপ ফেলেছেন তাঁরা।
গোয়াতেও আপ দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে জেতার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আসনে জোরদার লড়াই দিয়েছে। সবচাইতে বড় কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিভিন্ন ইস্যুতে যেভাবে প্রতিনিয়ত আক্রমণ করে চলেছেন কেজরিওয়াল, তাতে লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী জোটের মুখ তিনি হয়ে উঠতে পারেন বলে দলের আম আদমি পার্টির কর্মী-সমর্থকরা মনে করছেন। উল্লেখ্য একের পর এক রাজ্যে পা রেখে প্রত্যাশা জাগাচ্ছে আপ। তৃণমূল যেখানে অন্য দল ভাঙিয়ে বিধায়ক বা সাংসদদের নিজেদের দলে টেনে আনছেন আপ কিন্তু সে রাস্তায় হাঁটছে না। তারা রীতিমতো সংগঠন তৈরি করে লড়াই করছে। আর যে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রকৃত বিস্তার এভাবেই হয়। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের তকমা পেয়ে যাওয়ায় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে কেজরিওয়ালের গুরুত্ব যে অনেকটাই বেড়ে গেল সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই তিনি আগামী দিনে বিরোধী জোটের প্রধান মুখ হয়ে উঠতেই পারেন। সেই সম্ভাবনা এখন যে বেশ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে তা স্পষ্ট।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন