কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ উঠতেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট৷ সেই নির্দেশ পেয়েই শুক্রবার দুপুরে তেহট্টের তৃণমূল বিধায়ক তাপস সাহার বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই৷ টানা ১৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পর শনিবার সকালে বিধায়কের বাড়ি ছাড়েন তাঁরা৷ সঙ্গে করে নিয়ে যান তাপসের দুটো ফোন৷ সিবিআই বাড়ি ছাড়তেই তাপস সোজা মোবাইল কিনতে ছোটেন স্থানীয় বাজারে৷ রাতে আবার বাড়িতে ছিল ভূরিভোজের আয়োজন৷ সেই সব পর্ব মিটিয়ে এখন অভিমানের সুর তৃণমূল বিধায়কের গলায়৷ ‘অভিমানী’ তাপস জানালেন, তিনি আর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না৷ সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটার সিদ্ধান্ত নিলেন বিধায়ক৷ তাঁর সাফ কথা, এ বিষয়ে যা বলার তা বলবেন দলের উর্ধ্বতন নেতৃত্ব৷
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইতিমধ্যেই সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী, কর্মী। তাঁদের সূত্র ধরেই উঠে আসে তেহট্টের বিধায়ক তাপস সাহার নাম৷ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই মামলায় সিবিআই তদন্তে নির্দেশ দিতেই শুক্রবার তাঁর বাড়ি, অফিস প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসাররা। তল্লাশি চালানো হয় তাঁর ঘনিষ্ঠদের বাড়িতেও। গা বাঁচিয়ে বিধায়ক সাফ জানান, যা করেছে সবটাই তাঁর আপ্ত সহায়ক৷ তিনি নিমিত্ত মাত্র৷
বিধায়কের আপ্তসহায়ক প্রবীর কয়ালের বাড়িতে হানা দিয়ে রীতিমতো চমকে ওঠেন সিবিআই গোয়েন্দারা৷ তাঁর বাড়ি প্রাসাদের চেয়ে কিছু কম নয়৷ প্রবীরের বিপুল আয়ের উৎস নিয়েও সন্দিহান তদন্তকারী অফিসাররা৷ যদিও তাপস সাহা কিংবা তাঁর ঘনিষ্ঠ কাউকেই এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি৷ তাপসের দাবি, তাঁর সঙ্গে ষড়যন্ত্র চলছে বলে মনে করছে সিবিআই। এর পর সিবিআই যেতেই শুরু হয় রান্নাবান্না৷ কর্মীদের ডেকে নিজের হাতে খাওয়ায় খাসির মাংস-ভাত৷ যদিও তাপলের দাবি, ইদ উপলক্ষেই ছিল খাওয়া দাওয়ার এই আয়োজন। যদিও সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে আর মুখ খুলতে চাইছেন না তৃণমূল বিধায়ক। বরং সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃত করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি৷ জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আর কথা বলবেন না।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন