কলকাতা: এক সঙ্গে পথ চলার স্বপ্ন দেখেছিল ওঁরা। ঘর বাঁধতেই হয়তো পাড়ি দিয়েছিল ভিন দেশে। কিন্তু, কাঁটা তার পেরনো যে সহজ কথা নয়৷ বছর দেড়েক আগে কাঁটা তার পেরতে গিয়েই মুর্শিদাবাদ সীমান্ত থেকে ধরা পড়েন রবিউল চৌধুরী নামে বছর ২৩-এর এক যুবক৷ তিনি রংপুরের বাসিন্দা৷ আপাতত তাঁর ঠিকান বহরমপুর জেল৷
এই ঘটনা এলোমেলো করে দেয় রবিউলের জীবন৷ ওপাড়ে যে প্রতীক্ষায় আছে তাঁর প্রেমিকা৷ তাঁর কাছে ফিপবেন কী ভাবে? রবিউলের জীবন যখন তপ্ত মরুভূমি তখন একরাশ মেঘ নিয়ে সীমান্তের ওপাড় থেকে ভেসে এল প্রেমিকার চিঠি৷ বাতাসে বয়ে এল প্রেমের সুভাষ৷ সুদূর রংপুর থেকে তাঁর প্রেমিকা লিখল- ‘অনেকদিন তোমার কোনও খবর পাইনি। তুমি কেমন আছো তাও জানি না। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে তোমাদের বাড়িটি দেখলে মনটা হু হু করে। আমি বুঝতে পারি তুমি ভালো নেই। একদিন সব সমস্যা মিটে যাবে দেখো। মন শক্ত আছে আমার। তুমি ভালো থেকো। আমি তোমার জন্য অপেক্ষায় আছি।’
প্রেমিকার চিঠি হাতে পেয়েই হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলে রবিউল৷ বছর ২৩-এর একটি তরতাজা যুবক যে এভাবে কাঁদতে পারে, তা হয়তো চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারতেন না তাঁর সহবন্দিরা৷ লেখার মোড়কে আসা একটি আস্ত গোলাপ তখন শুকিয়ে কাঠ৷ কিন্তু তার গন্ধ অফুরান৷ সেই গোলাপ যেন শুষ্ক মরুদ্যানে জলের ছোঁয়া৷ প্রেমিকার সেই চিঠি নতুন করে বাঁচবার মন্ত্র দিয়ে যায় রবিউলের কানে৷ এখনও যে অনেক পথ চলা বাকি৷ প্রেমিকার চিঠি বুকে জড়িয়ে তাঁর হাত ধরে সেই পথ চলার অপেক্ষায় রবিউল৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন