নিজস্ব প্রতিনিধি: রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করেই চলেছে ভারত। আর এক্ষেত্রে নয়াদিল্লি রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করা তো দূরের কথা, উল্টে সেই আমদানির পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। আমেরিকার পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে বলেছিল, তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে নয়াদিল্লি। দেশগুলির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ভারত আমদানির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়িয়ে গিয়েছে। এতদিন অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যাপারে মূলত ইরান, ইরাক, সৌদি আরবের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির উপর নির্ভরশীল ছিল ভারত। কিন্তু যুদ্ধের পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।
অপেক্ষাকৃত কম দামে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে আরও বেশি করে তেল আমদানি শুরু করেছে। এই আমদানির পরিমাণ কতটা বেড়েছে তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট হবে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ ভারতের চাহিদা অনুযায়ী ছিল এক শতাংশেরও কম। সেখানে বর্তমান সময়ের পরিসংখ্যান বলছে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ভারতের বাজারের প্রায় ৩৪ শতাংশ দখল করে আছে। গত মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে ১০ লক্ষ ৬৪ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে নয়াদিল্লি। সেখানে ইরাক থেকে মার্চে তেল কেনা হয়েছে মাত্র ৮২ হাজার ব্যারেল। অথচ বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ইরাক থেকেই ভারত সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করত। এতেই স্পষ্ট রাশিয়া থেকে কি পরিমাণে তেল আমদানি করছে ভারত। পরিসংখ্যান বলছে চিন এবং আমেরিকার পর ভারত বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে।
ভারত যেভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি করেই চলেছে তা মোটেও ভালভাবে নিচ্ছে না আমেরিকা-সহ ইউরোপের দেশগুলি। কিন্তু এর আগে বহুবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে দেশের প্রয়োজনে ভারত কোথা থেকে তেল কিনবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে শুধুমাত্র নয়াদিল্লি। সেখানে অন্য কোনও দেশের কিছু বলার থাকতে পারে না। সেই সঙ্গে নয়াদিল্লির দাবি রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল পাওয়া যাচ্ছে বলেই ভারতে পেট্রোপণ্যের দাম অনেকদিন স্থির আছে। নতুন করে আর দাম বাড়েনি। এর পাশাপাশি ভারত স্বল্প মূল্যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনলে কেন দেশগুলি এমন মন্তব্য করছে, তা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদেশমন্ত্রী। আর ভারতের এই ভূমিকায় বারবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে মস্কো। ভারতের এই অনড় অবস্থানের প্রশংসা করেছেন খোদ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাই আগামী দিনে এই তেল আমদানির পরিমাণ যে আরও বাড়বে সেটা বলাই যায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন