নয়াদিল্লি: ‘মোদী’ পদবি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় তাঁকে দু’বছরের জেল দিয়েছিল সুরাত জেলা আদালত৷ সেই রায়ের ভিত্তিতেই সাংসদ পদ খোয়াতে হয় তাঁকে৷ ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গুজরাতের সুরত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ৩০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে থাকা ওয়ানাড়ের প্রাক্তন সাংসদ। এই মামলায় কংগ্রেস নেতাকে জামিন দিল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত৷ পরবর্তী শুনানির দিন অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত রাহুলের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, নিম্ন আদালতের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ পাওয়ার জন্য আর্জি জানান রাহুল গান্ধী। জানা গিয়েছে, রাহুলের হয়ে আদালতে সওয়াল করবেন আইনজীবী আরএস চিমা। এদিন আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন রাহুল। তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন বোন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, কংগ্রেস শাসিত তিন রাজ্য- রাজস্থান, ছত্তিসগঢ়, হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট, ভূপেশ বঘেল এবং সুখবিন্দর সিংহ সুখু। রাহুলের আদালতে উপস্থিত থাকা নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপিও। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজু সোমবার সকালে টুইট করে লেখেন, “এক জন অভিযুক্ত উচ্চ আদালতে আবেদন জানানোর জন্য নিজে যান না, যাওয়ার প্রয়োজনও পড়ে না। কিন্তু বাচ্চাদের মতো দলবল নিয়ে ওখানে নাটক করতে গিয়েছেন রাহুল।”
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে কর্ণাটকের কোলারে এক রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখার সময় মোদী পদবী ঘিরে তীর্যক মন্তব্য করেছিলেন রাহুল। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সুরাত কোর্টে মামলা দায়ের করেন পূর্ণেশ মোদী। সম্প্রতি ওই মামলায় রাহুল গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত এবং তাঁকে দু’বছরের জন্য সাজা শোনায়। সেই সঙ্গে ১৫ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতে রাহুলের সাংসদপদ খারিজ করে দেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন