কলকাতা: কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ধর্নায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রেড রোডের ধারে বাঁধা হয়েছে মঞ্চ৷ সেখানেই দু’দিন ধর্না দেবেন তিনি। উপস্থিত রয়েছেন দলের নেতা-মন্ত্রীরাও৷ মঞ্চে আনা হয়েছে ভারতের সংবিধানও৷ মমতার কথায়, ‘‘ভারতবর্ষের নাগরিকত্ব, ভারতবর্ষের ধর্মনিরপেক্ষতা, ভারতবর্ষের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য আজকে আমরা এখানে বসেছি।’’ তবে এই প্রথম নয়৷ ধর্না-অনশনের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক বহু পুরনো৷ এর আগেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যুতে ধর্নায় বসেছেন তিনি৷ যার মধ্যে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য সিঙ্গুর আন্দোলন৷
২০০৬ সালের ১৮ মে৷ সিঙ্গুরে ছোট গাড়ির তৈরির প্রকল্প ঘোষণা করেন শিল্পপতি রতন টাটা। কিন্তু, ৯৯৭ একর কৃষিজমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সিঙ্গুর জুড়ে শুরু হয় আন্দোলন। যার নেতৃত্বে ছিল তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল।
গোপালনগর, বেড়াবেড়ি, বাজেমেলিয়া, খাসেরভেড়ি, সিংহেরভেড়ি-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় দাবানলের মতো আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ওই বছরই ৩০ নভেম্বর সিঙ্গুরে গিয়ে আক্রান্ত হন তৎকালীন বিরোধীনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অশান্তির আঁচ লাগে বিধানসভায়। সে দিন তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ বিধানসভার আসবাব ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ তোলে সিপিএম।
টানা ১৪ দিন সিঙ্গুরে ধর্নায় বসেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ সেখানে ১৪টি ক্যাম্প করে ছিলেন তৃণমূলের নেতারা৷ এর পর ডিসেম্বর মাসে সিঙ্গুরের ‘অনিচ্ছুক’ কৃষকদের জমি ফেরানোর দাবিতে ২৬ দিন ধর্মতলার মোড়ে অনশন-অবস্থান করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা তৎকালীন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলে৷ মমতার সেই অনশন মঞ্চে এসেছিলেন বিভিন্ন দলের নেতানেত্রীরা। সমর্থন এসেছিল তৎকালীন কেন্দ্রের সংগ্রেস সরকারের তরফেও। অনশন মঞ্চে মমতাকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সকলের সনির্বন্ধ অনুরোধে অবশেষে অনশন প্রত্যাহার করেন তৃণমূল নেত্রী। বাকিটা ছিল ইতিহাস৷ এর পরেই সিঙ্গুর থেকে ন্যানো প্রকল্প গুজরাতের সানন্দে সরিয়ে নিয়ে যায় টাটারা৷ ২০১১ সালে বিপুল ভোটে জিতে এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসে জোড় ফুল৷
এর পরেও মমতা ধর্না দিয়েছেন৷ সাল ২০১৯৷ কলকাতা পুলিশের তৎকালীন কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই অভিযানের প্রতিবাদে ধর্মতলায় ধর্নায় বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ধর্না শুরু হওয়ার পর পরই মুখ্যমন্ত্রীর পাশে চেয়ার নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় পুলিশ কমিশনারকে। ওই ঘটনায় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকে কী করে তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ধরনায় বসলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিজেপি৷ এর পর ২০২৩৷ কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে অনশনের অস্ত্রে শান দিলেন তৃণমূল নেত্রী৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন