নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্য বিজেপির 'ত্রিভুজ' নেতৃত্ব বারবার খবরের শিরোনামে এসেছেন। সেই দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদারের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কাকে বেশি ভরসা করেন, তা নিয়ে বহুদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা চলছিল। এবার রাজ্য সফরে এসে সেই বিষয়টি স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সুকান্ত ও শুভেন্দু মঞ্চে বসে থাকা অবস্থাতেই তিনি প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন শুধুমাত্র বিরোধী দলনেতাকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে শুভেন্দুর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সিউড়ির সভামঞ্চ থেকে অমিত শাহ বলেছেন, "দিদির দাদাগিরির বিরুদ্ধে সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই চালাচ্ছেন বাংলার বিরোধী দলনেতা। তৃণমূলের চুরি আর দুর্নীতিকে প্রতিদিন জনসমক্ষে তুলে ধরছেন তিনি। বাংলার বিজেপির লড়াইয়ের জন্যই আজ তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি জেলের ভিতর রয়েছেন।'' বেশ কিছুদিন ধরে শুভেন্দু যেভাবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামিল হচ্ছেন তা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে। সদ্য বিজেপির বৈঠকে এই বিষয়টি সমালোচিত হয়েছে। ঠিক তারপরই অমিত শাহ যেভাবে শুভেন্দুকে প্রশংসায় ভরালেন তাতে বিজেপির সেই অংশ যে জোর ধাক্কা খেল তা স্পষ্ট।
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল ছেড়ে যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছেন তাঁরা প্রথম থেকেই বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছেন। একুশের নির্বাচনের সময়ে দেখা গিয়েছে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান করা শুভেন্দু অধিকারী, জিতেন্দ্র তিওয়ারি, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবীর ঘোষাল-সহ অন্যান্য নেতা-নেত্রীদের বিজেপি কতটা গুরুত্ব দিয়েছে। তার আগে বিজেপিতে যোগদান করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছে নিশীথ প্রমাণিক। আর মুকুল রায়কে করা হয়েছিল বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি।
এরপর বিজেপি নির্বাচনে পরাজিত হলে কেউ কেউ আবার তৃণমূলে ফিরে যান। কিন্তু বিজেপির আদি নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেভাবে গুরুত্ব না দেওয়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। তাই দেখা গিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করে আসা সায়ন্তন বসু, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, রীতেশ তিওয়ারিদের মতো বঙ্গ বিজেপির পরিচিত মুখরা আজ অন্তরালে চলে গিয়েছেন। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে শুভেন্দুর প্রশংসা করেছেন তাতে আদি ও নব্যের বিরোধ রাজ্য বিজেপিতে নতুন করে দেখা যাবে বলে রাজনীতির কারবারিদের একাংশ মনে করছেন।
আসলে নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনে মর্যাদার লড়াইয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে পেরেছিলেন বলেই শুভেন্দুর কদর এতটা বেড়েছে। এর পাশাপাশি বিগত কয়েক মাস ধরে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জনসভায় উপস্থিত থেকে শুভেন্দু তীব্র আক্রমণ করে চলেছেন তৃণমূলকে। শুভেন্দুর প্রত্যেকটি সভাতেই ভাল ভিড় হচ্ছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময় অন্তর দিল্লিতে গিয়ে শুভেন্দু ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করেছেন অমিত শাহের সঙ্গে। যতবারই তিনি দিল্লি গিয়েছেন সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাক্ষাতের সময় পেয়ে গিয়েছেন। তখনই বোঝা গিয়েছিল তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কতটা 'গুডবুকে' রয়েছেন। এই আবহের মধ্যেই বঙ্গ সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতাকে। তাই সামনের রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলিতে শুভেন্দু যে মানসিকভাবে আরও চাঙ্গা হয়ে ঝাঁপাতে পারবেন তা স্পষ্ট।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন