নিজস্ব প্রতিনিধি: কয়লা মাফিয়া রাজু ঝা'কে খুনের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। বহু মানুষের চোখের সামনে যেভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।কয়লা মাফিয়াকে গুলি করে খুন করার পর দুষ্কৃতীরা কোন পথ দিয়ে পালিয়েছে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে গাড়ি থেকে রাজুকে গুলি ছোঁড়া হয়েছিল সেই গাড়িটি রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ গাড়ি নিয়ে পালায়নি অপরাধীরা। এই খুনের ঘটনায় তদন্তের জন্য রবিবার সিট গঠন করা হয়েছে। সেই তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে রয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন। তদন্তকারী দলে আরও ১১ জন সদস্য রয়েছেন। রাজু যে গাড়িতে ছিলেন তার চালক নুরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শক্তিগড় থানায় আটক করে রেখেছে পুলিশ। কারণ ঘটনার পর নুরুল জানিয়েছিলেন তিনি গুলি চালানোর আগে একটি দোকানে ঝালমুড়ি কিনতে গিয়েছিলেন। সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতাকেও শক্তিগড় থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
কিন্তু এই খুনের ঘটনায় আরও চঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে গরু পাচারকারী কাণ্ডে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল লতিফের গাড়িতে চেপেই রাজু যাচ্ছিলেন। রাজুর বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি অন্যের গাড়ি ব্যবহার করছিলেন তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। তবে এখানেই শেষ নয়, জানা গিয়েছে হত্যাকাণ্ডের সময় নাকি রাজুর গাড়িতেই ছিলেন লতিফ। গুলি ছুটে আসতে দেখেই নিজেকে বাঁচাতে লতিফ গাড়ি থেকে নেমে ভিড়ে মিশে যান বলে জানা গিয়েছে। বহুদিন ধরেই লতিফ ফেরার। কিন্তু ঘটনার সময় লতিফ সেখানে ছিলেন এমন একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজু হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে কয়লা পাচারের সঙ্গে খুন হওয়া রাজুর সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে অনেকেই দাবি করছেন। অন্যদিকে গরু পাচার কাণ্ডে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হলেন আব্দুল লতিফ। তবে কি কয়লা পাচার, গরু পাচার কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মাফিয়ারা সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছেন? এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে। উল্লেখ্য রাজুর গাড়িতে আরও এক সঙ্গী ছিলেন। তাঁর নাম ব্রতীন মুখোপাধ্যায়। তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর। তবে তাঁকে ঘটনাটি নিয়ে এখনও পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তাই ওই গাড়িতে আব্দুল লতিফ সত্যিই ছিলেন কিনা সেটা গাড়ি চালকের পাশাপাশি তিনিও বলতে পারবেন। কিন্তু গাড়ি চালককে আব্দুল লতিফের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। অর্থাৎ পুলিশের তদন্ত নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই রহস্যের উদঘাটন কবে বা কীভাবে হবে এখন সেদিকেই চোখ থাকবে সবার।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন