কলকাতা: প্রায় ৬৫ ঘণ্টা টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেলেকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই৷ কিন্তু, তাতে কোনও খেদ নেই বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাবা বিশ্বনাথ সাহার৷ বরং ছেলের ‘অত্যাচারে অতিষ্ঠ’ ছিলেন তিনি। সোমবার ভোরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তৃণমূল বিধায়ক গ্রেফতার হতেই একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিশ্বনাথ সাহা। অভিযোগ, তাঁর প্রাপ্য লাইসেন্স ঘুষ খেয়ে অন্য জনকে দিয়ে দিয়েছিল তাঁর ছেলে৷ যদিও এ নিয়ে তৃণমূল বিধায়কের কোনও বক্তব্য জানা যায়নি। কারণ, আপাতত তিনি সিবিআই হেফাজতে৷
এদিন বিশ্বজিৎবাবু যেন বুঝিয়ে দিলেন, বেশ হয়েছে জীবন ধরা পড়েছে। ওঁর এটাই ভবিতব্য ছিল। জীবন গ্রেফতার হওয়ায় তাঁরা বেঁচেছেন! বিশ্বনাথবাবুর দীর্ঘদিনের রেশন ডিলারের ব্যবসা। জীবনের বাবা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমার এমনই ছেলে, যে নিজের বাবার কাছেও ঘুষ চাইত!’ কিন্তু, বাবার কাছে ঘুষ চাইবেন কেন? বিশ্বনাথবাবু জানান, মিড ডে মিলের একটি টেন্ডারে তিনি রেশন ডিলার হিসাবে দরপত্র হেঁকেছিলেন৷ তাঁর নাম ছিল সবার উপরে। সেই সময়ে নাকি জীবন সরাসরি তাঁকে বলেন, ‘টাকা দিতে হবে। তবেই টেন্ডার পাওয়া যাবে। নইলে কাঁচি হয়ে যাবে তোমার নাম।’
বিশ্বনাথ ঘুষ দিতে রাজি ছিলেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি টাকা দিইনি বলে অন্য একজনের থেকে টাকা খেয়ে তাঁকে টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিল জীবন। মাত্র এক সপ্তাহ আগে আমায় মার্ডার করার হুমকি দিয়েছিল ও৷’’ এমনকি রেশন ডিলারশিপের একটি লাইসেন্সও জীবন তাঁর প্রভাব খাটিয়ে বাতিল করে দিয়েছেন বলে দাবি তাঁর৷
এদিন তাই ছেলের গ্রেফতারির খবর শুনে বিশ্বনাথের বক্তব্য, ‘‘ওকে গ্রেফতারের কথা শুনে আমার কিছু মনে হয়নি। আমার মনে কোনও দুঃখ নেই। ও আমার অনেক ক্ষতি করেছে। ও বুঝবে। আমি ওই সব ব্যাপারে ঢুকব না।’’ তিনি এও বলেন, ‘‘ও বিধায়ক হয়েছে এবং কী ভাবে বিধায়ক হয়েছে, তা আমাকে জানায়নি।’’
শুধু বাবা নন, তাঁর বোনও স্পষ্ট বলেন, জীবন ছিলেন অত্যন্ত ক্ষতিকারক, বিষাক্ত। তাঁদের জীবন নাজেহাল করে দিয়েছে৷ জীবনের বাবার সাফ কথা, ‘‘ওকে আমি আর আমার ছেলে বলে মনে করি না। ওকে ত্যাজ্যপুত্র করেছি। আমার কাছে আমার ছেলে আর বেঁচে নেই৷’’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন