বড়ঞা: প্রায় ৬৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা৷ চৈত্র সংক্রান্ত থেকে যেন ঝড় বয়ে গিয়েছে বড়ঞার বাড়ির উপর দিয়ে৷ সেই ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন জীবনকৃষ্ণর স্ত্রী৷ স্বামীকে সিবিআই গোয়েন্দারা গাড়িতে তুলতেই জলে ভরে ওঠে দু’চোখ৷ আলুথালু চেহারা৷ ট্রাউজার্স আর টিশার্ট পরা জীবনকে গাড়িতে তুলছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর চার জওয়ান। পিছনে ফিরে একবার চোখের পলকে দেখে নিলেন মা, স্ত্রী আর সন্তানকে। দরজা বন্ধ করে গাড়ি চালু করতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন জীবনের স্ত্রী টগরি সাহা। কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘‘এ কোন জীবন! এই জীবনকে তো আগে কখনও দেখিনি৷’’
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শুক্রবার থেকে টানা ৬৪ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ আর তল্লাশি অভিযানের পর সোমবার খুব ভোরে গ্রেফতার করা হয় মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে। এই কয় ঘণ্টার মধ্যে চরম নাটকীয়তার সাক্ষী থাকল বড়ঞার আন্দি। প্রমাণ লোপাটে জিজ্ঞাসাবাদ তলার মাঝেই বাড়ির পিছনে থাকা পুকুরে দু’টি মোবাইল ছুড়ে ফেলে দেন জীবন৷ তার পর পাম্প বসিয়ে পুকুরের জল ছেঁচে একটি মোবাইল উদ্ধার করে সিবিআই৷ তল্লাশি চালিয়ে নিয়োগ দুর্নীতির একাধিক তথ্য প্রমাণ হাতে আসে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের৷ তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে রবিবার রাতেই জীবনকৃষ্ণকে গ্রেফতারির প্রক্রিয়া শুরু করে সিবিআই। রাত সাড়ে ১১টা হবে৷ হঠাৎ করেই বিধায়কের বাড়ির বাইরে নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় সিবিআই। বড়ঞায় পৌঁছন আরও ৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। রাত ২টো ৩৫ নাগাদ কলকাতা থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থার ৪ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক পৌঁছন বিধায়কের বাড়িতে। সেখানে আরও এক দফা জিজ্ঞাসাবাদের পর ভোর ৪টে ৫০ মিনিট নাগাদ গ্রেফতার হন তৃণমূল বিধায়ক। অ্যারেস্ট মেমোতে স্বাক্ষর করেন বিধায়কের স্ত্রী টগরি সাহা।
সিবিআই সূত্রে দাবি, রবিবার বাড়ি সংলগ্ন পুকুর থেকে যে মোবাইলটি উদ্ধার হয়েছে, সেটি আসলে জীবনের স্ত্রী টগরির। জল থেকে বার করার পরই তা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে টগরির সঙ্গে যোগা়োগ করা যায়নি। তবে তাঁর পরিবার সূত্রে খবর, স্বামীর গ্রেফতারির পর ভেঙে পড়েছেন তিনি৷ একভাবে টিভির সামনে বসে রয়েছেন৷ জীবনকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে কী হচ্ছে, সবটাই সংবাদমাধ্যমের লাইভ কভারেজ থেকে জানার চেষ্টা করছেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন