ওয়াশিংটন: আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল তাঁর৷ কিন্তু তার আগেই গ্রেফতার হলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ পর্নতারকাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয় আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। আমেরিকার দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রেসিডেন্টকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার করা হল। বিচারক তাঁকে গ্রেফতারির নির্দেশ দিতেই আদালত চত্বরে তীব্র চিৎকার শুরু করেন ট্রাম্প৷ তিনি বলেন, “আমাদের দেশ নরকে পরিণত হচ্ছে। গোটা বিশ্ব আমাদের দেখে হাসছে।”
সংবাদসংস্থা এপির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের সময় পর্নস্টার স্টর্মি ড্যানিয়েলসের মুখ বন্ধ করতে ঘুষ দিয়েছিলেন তিনি৷ জানা যায়, শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বলেছিলেন তাঁকে৷ সেই অভিযোগেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ধারা চাপানো হয়। যদিও ট্রাম্প অনুগামীদের অভিযোগ, সবটাই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। কথা ছিল ভারতীয় সময় রাত পৌনে ১২টা নাগাদ নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু বিচারকের নির্দেশে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়৷
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালত কক্ষে দাঁড়িয়ে কোনও কবুল করেননি ট্রাম্প। নিউ ইয়র্কের ম্যানহ্যাটন কোর্টরুমে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কথা বলেন তিনি। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি তুলে ধরা হলে তিনি জোর গলায় বলেন, “নট গিল্টি”৷ অর্থাৎ আমি অপরাধী নই। মামলা চলাকালীন তাঁর চোখে মুখে ছিল বিরক্তির ছাপ৷
আদালত থেকে বেরনোর পর জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প চিৎকার করে বলেন, “দেশকে শত্রুদের থেকে বাঁচিয়েছি, এটাই আমার অপরাধ। বরাবর অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছি৷ আজ গোটা বিশ্ব এই ঘটনা দেখে হাসছে।” এর পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম না করে ট্রাম্প বলেন, দেশ রসাতলে যাচ্ছে।
এদিকে স্টর্মির দাবি, ২০০৬ সালে তিনি এবং ট্রাম্প শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তাঁর মুখ বন্ধ করতে ১ লক্ষ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ঘুষ দেন ট্রাম্প। সেই অভিযোগেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন