চণ্ডীগড়: এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে ধরা দিলেন খলিস্তানপন্থী নেতা অমৃতপাল সিং৷ রবিবার ভোরবেলায় গুরুদ্বারের সামনে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। তার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ একাধিক সূত্রে এমনটাই দাবি৷ তবে অমৃতপাল কী ভাবে ধরা পড়লেন, পুলিশের তরফে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অপর একটি সূত্রে জানা যাচ্ছে, পঞ্জাবের মোগা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ‘ওয়ারিস পাঞ্জাব দে’র প্রধান। আপাতত ধৃত খলিস্তানী নেতাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অসমের জেলে।
দিন তিনেক আগেই ধরা পড়েছিলেন অমৃতপালের স্ত্রী কিরণদীপ কউর৷ অমৃতসর বিমানবন্দরে তাঁকে আটকানো হয়। তিনি লন্ডনে যাচ্ছিলেন বলে খবর। শুল্ক দফতরের আধিকারিকরা কিরণদীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে তাঁকে আটক করা হয়। কিরণদীপ আটক হওয়ার তিন দিন পরেই ধরা পড়লেন পলাতক খলিস্তানী নেতা অমৃতপাল। এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি স্ত্রীর টানেই ধরা দিলেন অমৃতপাল? নিজে থেকেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি?
‘ইন্ডিয়া টুডে’র রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় মোগা শহরে আসেন অমৃতপাল। সে কথা নিজেই ফোন করে পুলিশকে জানান৷ রবিবার ভোরে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে অমৃতপালকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে কিরণদীপের সঙ্গে বিয়ে হয় অমৃতপালের৷ কিরণদীপ প্রবাসী ভারতীয়। ঠিকানা ব্রিটেন৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় অমৃতপালের ভিডিয়ো দেখে তাঁর প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। ‘দ্য উইক’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিরণদীপ জানিয়েছিলেন, তিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইনস্টাগ্রামে অমৃতপালকে ‘ফলো’ করেন। তার পর অমৃতপালকে মেসেজ করেন। সেখানে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন কিরণ৷ ধীরে ধীরে আলাপ পরিচয় গভীর হয় এবং তাঁঁদের হৃদয় বিনিময় হয়। সাত পাকে বাঁধা পড়েন খলিস্তানি নেতা।
কিরণদীপ জানিয়েছেন, বিয়ের আগেই তাঁকে অমৃতপাল বলেছিলেন, যে কোনও দিন তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে সেই আশঙ্কা যে এত তাড়াতাড়ি সত্যি হবে, তা হয়তো কল্পনা করতে পারেননি তাঁরা কেউই৷
বিভিন্ন জাতির মধ্যে বৈষম্য ছড়ানো, খুনের চেষ্টা, পুলিশকে আক্রমণ এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে অমৃতপাল সিং-এর বিরুদ্ধে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন