নয়াদিল্লি: ২০২৩ সালে একাধিক রাজ্যে বিধানসভা ভোটের পর ২০২৪-এ রয়েছে লোকসভা নির্বাচন৷ সেমিফাইনালের পর হবে ফাইনাল ম্যাচ৷ যার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই নিতে শুরু করে দিয়েছে সব কটি রাজনৈতিক দল৷ ২৪-এর ভোটেও বিজেপি’র স্ট্র্যাটেজি ‘জতীয়তাবাদ’৷ সঙ্গে হাতিয়ার ‘ব্র্যান্ড মোদী’৷ বিরোধীরা কোন অস্ত্রে শান দেবে, তা অবশ্য সময়ের অপেক্ষা৷ কিন্তু প্রশ্ন হল, আগামী বছর কোন মাসে অনুষ্ঠিক হবে লোকসভা নির্বাচন?
২০১৯-এ ভোট শুরু হয়েছিল এপ্রিল মাসে। কিন্তু ২০২৪-এ সম্ভবত মার্চ মাসেই অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। সামান্য এগিয়ে আসতে পারে লোকসভা ভোটের সময়। মিলেছে তেমনই ইঙ্গিত। জানা যাচ্ছে, আসছে বছর ফেব্রুয়ারির শুরুতে ‘ভোট অন অ্যাকাউন্টস’ পেশ করবে মোদী সরকার। এর পরেই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে দেবে নির্বাচন কমিশন। এখন থেকে দল এবং সরকারকে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এখন থেকেই নির্বাচনমুখী মনোভাব নিয়ে এগিয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
২০২৪-এর মার্চে ভোট ধরে নিয়ে অক্টোবর থেকেই প্রার্থী বাছাই-এর কাজ শুরু করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রার্থী নিয়েই অতি সতর্ক দল৷ দলীয় স্তরে রিপোর্ট খতিয়ে দেখা তো বটেই, বেসরকারি পেশাদার সমীক্ষক সংস্থাকেও এ বিষয়ে কাজে লাগিয়েছে পদ্ম শিবির। দলীয় সাংসদ-নেতাদের ভাবমূর্তি খতিয়ে দেখে প্রার্থী বাছাই চূড়ান্ত করা হবে বলে সূত্রের খবর৷
সরকারি সূত্রে খবর, আগামী বছর ‘ভোট অন অ্যাকাউন্টস’ পেশ করার আগে বাজেট বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ ব্যয় করতে হবে৷ এর জন্য প্রতিটি মন্ত্রককে কড়া নির্দেশিকা পাঠানো হচ্ছে। ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দের মধ্যে সরাসরি জনস্বার্থে নেওয়া প্রকল্পগুলির উপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। জানুয়ারি মাসের মধ্যেই এই কাজ অনেকটা এগিয়ে ফেলতে হবে৷ তেমনই নির্দেশ৷ প্রশাসনের অন্দরে যখন বাজেটে বরাদ্দ অর্থ ব্যয়ের তৎপরতা তুঙ্গে, তখন দল ব্যস্ত নতুন মুখের খোঁজে৷
দলীয় সূত্রে খবর, ২০২৪-এ প্রায় ৬০ শতাংশ সাংসদ নতুন করে টিকিট পাবেন না। তাঁদের পরিবর্তে নিয়ে আসা হবে নতুন মুখ৷ সেই মুখ খুঁজে বার করতে কাজ লাগানো হয়েছে পেশাদার সমীক্ষকদের। গত পাঁচ বছরে কোন কোন সাংসদ কেমন পারফরম্যান্স করেছেন, কোন লোকসভা কেন্দ্রে কোন বিজেপি নেতার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল, সব দিক খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁদের। দলীয় স্তরে পেশ করা রিপোর্টের সঙ্গে সমীক্ষার ফলের তুল্যমূল্য বিচার করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। চুলচেরা বিশ্লেষণের পরেই হবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই।
রাজনৈতিক সূত্র বলছে, ২০১৯-এর চেয়ে ২০২৪-এ বিজেপি এককভাবে অনেক বেশি আসনে লড়বে৷ কারণ, ভোটের স্রোতে এডিএ ছেড়েছে একগুচ্ছ আঞ্চলিক দল৷ পরিস্থিতি এমনই যে, ১৯৯৮ সালের পর বিজেপি’র এমন জোটসঙ্গীহীন অবস্থা যেখা যায়নি। ফলে ৫৪৩টির মধ্যে সিংহভাগ আসনে প্রার্থী খুঁজে বার করাটা মোদী-শাহের কাছেও কম চ্যালেঞ্জের নয়৷
তবে বিজেপি’র অন্যতম বড় হাতিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ যে 'ব্র্যান্ড মোদী' ইমেজে নির্ভর করে ২০১৪ এবং ২০১৯-এর যুদ্ধে তাঁরা জয়ী হয়েছিলেন, ২০২৪-এও সেই ইমেজকে সামনে রেখেই হবে লড়াই। এবারও 'হিন্দু হৃদয় সম্রাট'কে সামনে রেখেই ভোটের রণক্ষেত্রে নামবে গেরুয়া বাহিনী৷
এদিকে, চলতি বছর ডিসেম্বর অথবা আগামী বছর জানুয়ারি মাসে উদ্বোধন করা হবে অযোধ্যার রামমন্দির। আগামী আট মাসের মধ্যে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং তেলেঙ্গানায় হবে বিধানসভা নির্বাচন। এই রাজ্যগুলির প্রচারে নেমে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছেন মোদী। রাজ্য বিধামনসভা ভোট থেকেই তাঁরা বেঁধে দিতে চাইছেন লোকসভার সুর৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন