নয়াদিল্লি: ফুল বদলের অপেক্ষায় দিল্লিতে বসে মুকুল৷ কিন্তু, দিল্লির নেতৃত্বের যে তাঁর জন্য সময় নেই৷ চাতকের মতো আকাশ পানে চেয়ে আছেন তিনি৷ পাল্টেছেন ভোল৷ চুলে কায়দা করে রং করেছেন৷ গায়ে চাপিয়েছেন গেরুয়া জ্যাকেট৷ কিন্তু নিট ফল এখনও জিরো! বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা বা অমিত শাহ, কারও সঙ্গেই দেখা করার সুযোগ পেলেন না রায়সাহেব৷ এমনকি কেন্দ্রীয় স্তরে দলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগটুকুও জুটল না তাঁর৷
বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে দলবদল নিয়ে নানা কথা বলেছিলেন মুকুল রায়। তিনি মানসিক চাপের মধ্যে তৃণমূলে ফিরেছিলেন৷ জোর গলায় এও বলেছিলেন, ‘খামখেয়ালিপনা করে আমি তৃণমূল ভবনে গিয়ে গলায় উত্তরীয় পরেছিলাম। ওটা ঠিক কথা নয়। আমি বিজেপিতে ছিলাম, বিজেপিতেই আছি।’ এত হম্বি-তম্বির পর বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে একপ্রকার মুখ লুকিয়ে দামি হোটেলের বিল মিটিয়ে গোপন আস্তানায় মুখ লোকালেন মুকুল। তারপর থেকে তাঁর সঙ্গে মোবাইলে আর যোগাযোগ করা যায়নি৷ সোমবার রাতে যে বেশে দিল্লি বিমানবন্দরে নেমেছিলেন, বুধবার অভিজাত হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনে দেখা যায় একেবারে অন্যস মুকুলকে। পুরানো ‘লুক’-এ পুরানো মুকুল হতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, সেই প্রয়াস গিয়েছে বিফলে৷
মুকুল রায়কে নিয়ে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বর কোনও আগ্রহ নেই৷ এদিকে, তৃণমূল নেত্রীও তাঁকে বিজেপি’র বিধায়ক বলে দাগিয়ে দিয়েছেন৷ সোমবার রাতে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর থেকেই মুকুল বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ কিন্তু কেউই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি৷ এমনকি ফোনেও মুকুলের সঙ্গে কথা বলতে চাননি গেরুয়া নেতৃত্ব৷ তেমনটাই বিজেপি সূত্রের খবর।
‘লুক’ বদলের পাশাপাশি ডায়াবেটিস, ডিমেনশিয়া এবং পারকিনসন্সে আক্রান্ত ৭০ বছরের মুকুল, আপ্রাণ নিজেকে সুস্থ বলে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওঁর ছেলে বলছেন নাতির নাম মনে করতে পারছে না। কার সঙ্গে সেটিং করবেন?’’ মুকুলকে নিয়ে বিজেপির যে কোনও আগ্রহ নেই, তা ঠারেঠোরো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ দ্বিতীয় সারির এক নেতা বলেন, “মুকুল রায় অব না ঘর কা, না ঘাট কা।” দলের রাজ্য নেতৃত্বের যে মুকুলকে নিয়ে যে তীব্র আপত্তি রয়েছে সেকথা পৌঁছে গিয়েছে দিল্লির দরবারে৷ তাই তাঁকে পাত্তা দিতে নারাজ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন