কলকাতা: রায়সাহেবের মতিভ্রম নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি৷ আচমকা দিল্লি গিয়ে তাঁরে বিজেপি’তে ফেরার ইঙ্গিতে শোরগোল পড়েছে রাজনীতির আঙিনায়৷ মুকুল রায়ের আচমকা ফুল বদল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি বলেন, ‘‘যে কেউ আসছে, যাচ্ছে, দলটা রেস্তরাঁ হয়ে গিয়েছে। কেউ এসে ফিশ চপ অর্ডার দিচ্ছে, খেয়ে চলে যাচ্ছে। কেউ এল কাটলেট খেল, ফিশফ্রাই অর্ডার দিয়ে খেয়ে চলে গেল, ইচ্ছেমতো।’’ এখানেই থামেননি তৃণমূলের কালারফুল নেতা৷ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এবার তো সবাই মুকুলের পথে হাঁটবে।’’
বুধবার সংবাদমাধ্য মের সামনে আসেন ‘নিখোঁজ’ মুকুল৷ বোমা ফাটিয়ে বলেন, ‘‘কয়েক ঘণ্টার জন্যম আমি তৃণমূলে গিয়েছিলাম।’’ তাঁর এই বক্তব্যের পরেই মুখ খোলেন মদন৷ গত একবছরে মুকুলের কার্যকলাপ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি৷ দলের উদ্দেশেই ঘুরিয়ে মদনের প্রশ্ন, ‘‘গত বছর ২১ জুলাই মমতা অভিষেকের পাশেই মুকুলের চেয়ার ছিল। বিজেপিতে চলে গিয়ে সব খবর দিয়ে তারপর পাগল সেজে এলে মঞ্চে জায়গা হয়ে যাবে?’’
নিয়োগ দুর্নীতিতে আরও পাঁচজনের নাম বিজেপি টুইট করার পরেই আচমকা দিল্লিতে গিয়ে হাজির হন মুকুল রায়৷ ওই পাঁচজনের মধ্যে বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা মুকুলপুত্র শুভ্রাংশু রায়ের নামও ছিল। এদিকে, মুকুল নিখোঁজ হতেই থানায় ছোটেন শুভ্রাংশু৷ দিনভর নাটকের শেষে জানা যায় মুকুল দিল্লিতে৷ মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতবাস থেকে টিভি চ্যানেলে ‘ফোন ইন’ দিয়ে ফুল বদলের ইঙ্গিত দেন তিনি৷ জানান, প্রয়োজনে ফের বিজেপি করবেন। এরপরই বুধবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুকুলকে নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন, ‘‘মুকুল রায় কোথায় যাবেন, কোথায় যাবেন না, সেটা তাঁর ব্যাপার। মুকুল রায় বিজেপির বিধায়ক।’’
এর কিছুক্ষণ পরেই মুকুলকে তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি বলেন, ‘‘মুকুলকে নেওয়ার সময় মনে হচ্ছিল, দিল্লিতে বিজেপির সিংহাসন দখল করে ফেললাম আমরা।’’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘এটা শুভেন্দু অধিকারীর গেমপ্ল্যান। মুকুলকে দিয়ে কিছু নাম বলানো হবে, যাতে মানুষ সেটা বিশ্বাস করে। সে কারণেই মুকুল রায়কে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’’
এরপর মদন টেনে আনেন হিন্দি ছবির প্রসঙ্গও৷ জানান, ঘটনা পরম্পরা দেখে তাঁর অক্ষয় কুমার অভিনীত একটি ছবির কথা মনে পড়ছে৷ মদন বলেন, “ওই সিনেমায় দেখা গিয়েছিল, শরীরে চিপ ঢুকিয়ে দিলেই লোকেশন ট্র্যাক হয়ে যাবে ও সব গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে। বিজেপি তার ডিজিটাল টিম দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে না তো? এ সব না করলে তো মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছু করা যাচ্ছে না।’’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন