জাতীয় দলের তকমা খুইয়ে আরও অসুবিধায় তৃণমূল? আরও কোণঠাসা? - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৩

জাতীয় দলের তকমা খুইয়ে আরও অসুবিধায় তৃণমূল? আরও কোণঠাসা?



নয়াদিল্লি:
আশঙ্কাটা ছিলই। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হল। জাতীয় দলের তকমা হারাল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের পাশাপাশি বামফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল সিপিআই এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপি'ও জাতীয় দলের মর্যাদা হারাল।  উল্লেখ্য গত বছরের জুলাই মাসে তৃণমূল, এনসিপি ও সিপিআই'কে চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে আভাস দিয়েছিল। এছাড়া গত সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে কর্ণাটক হাইকোর্ট একটি নির্দেশে জানায় এ ব্যাপারে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে হবে। সেই মোতাবেক সোমবার নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ ও মণিপুরে রাজ্য পর্যায়ের দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় তৃণমূলকে জাতীয় দলের মর্যাদা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই মর্যাদা ধরে রাখতে পারল না বাংলার শাসক দল। সাত বছরের মধ্যেই সেই তকমা হারাল তৃণমূল। অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে বহুদিন আগেই গুরুত্ব হারিয়েছে সিপিআই। আর মহারাষ্ট্র ভিত্তিক রাজনৈতিক দল শরদ পাওয়ারের এনসিপি'ও অন্যান্য রাজ্যে সাফল্য পায় না। তাই অঙ্কের হিসেবে তৃণমূলের পাশাপাশি এই দুটি দলকেও জাতীয় দলের তকমা হারাতে হয়েছে।

কিন্তু রাজনৈতিক মহল মনে করছে এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ল তৃণমূল। তার কারণ পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি সর্বভারতীয় রাজনীতিতে সিপিআইয়ের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। একই ভাবে এনসিপি'ও রাজ্যে রাজ্যে তাদের সংগঠন বাড়াবার ব্যাপারে ততটা আগ্রহী নয় বলেই মনে করা হয়। নাম কা ওয়াস্তে তারা নির্বাচনগুলিতে প্রার্থী দিয়ে থাকে। সেখানে তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতৃত্ব নিয়মিত দাবি করছেন আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে যোগ্য হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের বাইরের রাজ্যগুলিতে সংগঠন বাড়াবার ব্যাপারে তাই বহুদিন ধরেই চেষ্টা করে যাচ্ছে তৃণমূল। যদিও গোয়া এবং ত্রিপুরার নির্বাচনে তারা শোচনীয় ফল করেছে। তুলনামূলক ভাবে মেঘালয় বিধানসভা নির্বাচনে প্রাসঙ্গিক রয়েছে তৃণমূল।

এই পরিস্থিতিতে তাদের জাতীয় দলের তকমা চলে যাওয়াটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক এক বছর আগে এই ঘটনা নিঃসন্দেহে তৃণমূলের কাছে অনভিপ্রেত ছিল। তাই জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের অগ্রগতি নিঃসন্দেহে কিছুটা হলেও হোঁচট খেল। তারা যখন বিরোধী জোটকে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন  দেখছিল তখন নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে গেল বাংলার শাসক দল। এই পরিস্থিতিতে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী জোটকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশ্নে তৃণমূলের গুরুত্ব কতটা থাকে এখন সেটাই দেখার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন