কলকাতা: ৬৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার সকালে অবশেষে গ্রেফতার করা হয় বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে৷ মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতার সিবিআই দফতর, নিজাম প্যালেসে নিয়ে আসা হল তাঁকে। গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে দেখে ধেয়ে এল প্রশ্ন, “পুকুরে ফোন ফেলে দিলেন কেন?”
চৈত্র সংক্রান্তির দিন সকালে জীবনকৃষ্ণের বড়ঞার বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর একটি টিম৷ শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ হাতে আসতেই নাটকীয় পরিস্থিতি৷ তদন্ত চলার মাঝেই নিজের দু’টি ফোন বাড়ির পিছনে থাকা পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেন জীবনকৃষ্ণ। এর পর পুকুরের জল ছেঁচে একটি মোবাইল উদ্ধার করে আনে সিবিআই৷ প্রায় ৬৫ ঘণ্টা টানটান নাটকের পর সোমবার ভোরে গ্রেফতার হন তৃণমূল বিধায়ক। সিবিআই তদন্তের মাঝে পুকুরে বিধায়কের ফোন ছুড়ে ফেলে নিয়ে রাজ্য রাজনীতি একেবারে তোলপাড়। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ জীবনকৃষ্ণকে নিয়ে সিবিআই আধিকারিকরা নিজাম প্যালেসে পৌঁছতেই তাই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন, কেন মোবাইল ছুড়েছিলেন? যদিও সেই প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি তৃণমূল বিধায়ক।
তদন্তে অসহযোগিতা এবং তথ্য লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে প্রাথমিকভাবে সোমবার ভোর সওয়া ৫টা নাগাদ গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে। তারপর তাঁকে নিয়ে নিজাম প্যালেসের উদ্দেশে রওনা দেন সিবিআই আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীনই বাড়ির পিছনে থাকা পুকুরে নিজের দুটি মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলেন জীবন৷ তার মধ্যে একটি উদ্ধার করা হয়েছে৷ শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসুস্থতার কথা বলে বিকেলের দিকে শৌচালয়ে যাওয়ার নাম করে ঘর থেকে বেরন জীবন৷ এর পর নিজের দু’টি মোবাইল বাড়ির পিছনের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেন তিনি। সেই সঙ্গে জলে ফেলেন দু’টি পেনড্রাইভ এবং একটি হার্ডডিস্ক। সেগুলিরও খোঁজ চালানো হয়। তবে প্রায় ৩২ ঘণ্টা তল্লাশির পর একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়৷ বাকিগুলি উদ্ধার করা যায়নি৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন