নিজস্ব প্রতিনিধি: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের তৃণমূল বিধায়কের। শুক্রবার থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি শুরু করেছে সিবিআই। বিধায়ক নিজের দুটি মোবাইল ফোন পুকুরে ফেলে দিয়েছেন তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে। তার মধ্যে একটি ফোন রবিবার সকালে উদ্ধার করা হয়েছে। সিবিআই নিশ্চিত নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে জীবনকৃষ্ণ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। চলছে টানা জিজ্ঞাসাবাদ। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করাটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। একদিকে তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে যখন সিবিআইয়ের ম্যারাথন তল্লাশি চলছে, অন্যদিকে গোপাল দলপতির পূর্ব মেদিনীপুরের বাড়িতেও হানা দিয়েছে সিবিআই।
এছাড়া গোপালের প্রাক্তন স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের বেহালার ফ্ল্যাটেও সিবিআই হানা দেয়। এখানেই শেষ নয়, বীরভূমের নলহাটির তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বিভাস অধিকারীর বাড়ি, আশ্রম এবং তাঁর কলকাতার ফ্ল্যাটেও শনিবার সকাল থেকে তল্লাশি অভিযানে নামে সিবিআই। সব মিলিয়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। সদ্য রাজ্য সফর করে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ঠিক তার পরেই সিবিআইয়ের তদন্তে যেভাবে গতি এসেছে তা অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এছাড়া কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় কিছুদিন আগেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণ শুনিয়েছেন। তদন্তের গতি এত ঢিমেতালে কেন হচ্ছে তা নিয়ে ভর্ৎসনা করেন সিবিআইকে। বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, তদন্ত সবে কোমর পর্যন্ত পৌঁছেছে। হৃদয় এবং মাথায় কবে পৌঁছবে? এর আগে একই ভাবে নিম্ন আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ইডি ও সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকরা। আর তারই অভিঘাতে বাংলা নববর্ষের সকাল থেকেই সিবিআই রাজ্য জুড়ে জোর তল্লাশি শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সবার একটাই প্রশ্ন, নতুন করে তদন্তে যেভাবে গতি বাড়িয়েছে সিবিআই সেটা আরও আগে কেন করা হয়নি? তাহলে তো তদন্তের জাল অনেকটাই গুটিয়ে আনা যেত। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে তদন্তে যত দেরি হবে তাতে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের সঙ্গে যুক্তরা বাড়তি সময় পেয়ে অনেক তথ্য প্রমাণ সরিয়ে দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের কব্জা করে দুর্নীতি কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মাথাদের কাছে পৌঁছনো কঠিন হবে। সিবিআইয়ের দক্ষ অফিসাররা এ কথা যে জানেন না তা নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও এতদিন তদন্তের গতি কেন বাড়েনি সেই প্রশ্ন তুলছেন সবাই।
কেন আদালতে ভর্ৎসিত হওয়ার পর তাঁদের টনক নড়ল? নিয়োগ মামলায় গোপাল দলপতির নাম বহু আগেই জড়িয়েছে। তাহলে এত দেরিতে কেন গোপাল এবং তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী হৈমন্তীর বাড়িতে তল্লাশিতে গেল সিবিআই? এই সমস্ত প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই উঠছে। তবে কী বড় কোনও নির্দেশ আসার অপেক্ষায় ছিল সিবিআই? অবশেষে সেই নির্দেশ এসেছে বলেই তদন্তে গতি বেড়েছে? ঘটনাচক্রে অমিত শাহের বঙ্গ সফরের পরেই তৎপরতা এতটা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাই গোটা বিষয়টি অনেকেই দুইয়ে দুইয়ে চার করে দেখতে চাইছেন। তবে যাই হোক না কেন, দেরিতে হলেও তদন্তে যেভাবে গতি বেড়েছে তাতে নিয়োগ মামলায় আরও বড় পর্দাফাঁস হবে বলে রাজ্যবাসী মনে করছেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন