কলকাতা: সব কিছু নিয়ে তিনি যেন মুখ না খোলেন। শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভা ও বিশেষ কিছু বিষয় ছাড়া তাঁর মুখ খোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে ঘটনায় বেশ অভিমানী ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তৃণমূল মন্ত্রিসভায় ফিরহাদই কার্যত নাম্বার টু, এমনটাই মনে করেন সবাই। তাই তাঁর উপর কিছু নিষেধাজ্ঞা চাপানোর ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট গুঞ্জন তৈরি হয়। সেই সময় কাজী নজরুলের কবিতা পাঠ করে কণ্ঠরোধের কথা জানিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু এবার পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। পঞ্চায়েত ভোটে দলের রাজনৈতিক জমি মজবুত করতে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত তিনটি জেলা সফরে যাবেন ফিরহাদ। চলতি মাসের শেষের দিকেই মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরে যাবেন তিনি।
ফিরহাদ এ বিষয়ে বলেছেন, ''আগামী দিনে পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে জেলায় জেলায় দলীয় সংগঠনকে মজবুত করার লক্ষ্যে এবং ব্যাপক প্রচার চালানোর জন্য দল যে নির্দেশ দেবে এবং যে কর্মপদ্ধতি ঠিক করে দেবে তৃণমূল কংগ্রেসের সৈনিক হিসেবে তা পালন করব।'' জেলার নেতাদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক করবেন তিনি।
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি বিধানসভার উপ-নির্বাচনে পরাজয় ভুলতে পারছে না তৃণমূল। সাগরদিঘিতে ৬৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। তা সত্ত্বেও তৃণমূলকে হারতে হয়েছে সেখানে। তবে কী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট তৃণমূলের পাশ থেকে সরে যেতে শুরু করেছে? এই চর্চা তখন থেকেই শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে। তাই পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়েছে শাসক দল। আর এক্ষেত্রে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত স্নেহভাজন তথা দলের অন্যতম সংখ্যালঘু মুখ ফিরহাদ হাকিমকে। আর এতেই স্পষ্ট ফিরহাদের দলে গুরুত্ব কমে যাওয়া নিয়ে যে জল্পনা চলছিল তা ঠিক নয়।
তৃণমূল সূত্রে খবর, হয়ত পুরমন্ত্রীর উপর সাময়িক অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর বেশি কিছু নয়। সদ্য কলকাতায় এসেছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। তাঁকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিলেন ফিরহাদ ও রাজ্যের অপর মন্ত্রী সুজিত বসু। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকেও অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিলেন ফিরহাদ। তাই এটা স্পষ্ট আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন ফিরহাদের উপর যথেষ্টই ভরসা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য শুভেন্দু অধিকারী যখন তৃণমূলে ছিলেন তখন এই তিনটি জেলায় তিনি পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তৃণমূলের পর্যবেক্ষকের পদটি উঠে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও যেভাবে একেক জন নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জেলায় বিশেষ দায়িত্ব দিচ্ছেন, তাতে কার্যত পর্যবেক্ষকের ভূমিকাই তাঁরা পালন করছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই তিনটি জেলার দায়িত্ব ফিরহাদকে দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই জেলাগুলিতে পুরমন্ত্রী কোন বিশেষ পরিকল্পনা সামনে রেখে কাজ শুরু করেন সেদিকেই চোখ থাকবে সবার।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন