কলকাতা: কলকাতার ইতিহাসে জুড়তে চলেছে এক নতুন অধ্যায়৷ ১৪৯ বছরের সেতু-বিবর্তনের শেষে সেই অধ্যায়ের সূচনা হবে আগামী ৯ এপ্রিল। লেখা হবে এক নতুন ইতিহাস। কারণ, ওই দিন প্রথম হুগলি নদীর নীচ দিয়ে ছুটবে মেট্রো রেল৷ এবার আর শুধু সেতু নয়, সুড়ঙ্গপথেও জুড়ে যাবে কলকাতা-হাওড়া।
বাংলায় তো বটেই, গোটা দেশে নদীর তলা দিয়ে মেট্রো রেলের এই অভিনব যাত্রাপথ এই প্রথম। তবে দুই শহরকে জোড়ার এই প্রয়াস বেশ পুরনো৷ ১৮৭৪ সালে প্রথমবার সেতুপথে বাঁধা পড়েছিল দুই ব্রিটিশ উপনিবেশের রাজধানী কলকাতা ও হাওড়া। ১৯ বছরের চেষ্টায় সেই কাজ সফল হয়েছিল৷ তবে সেটি ছিল একটি পন্টুন বা ভাসমান সেতু। সেই সেতুর মাঝের ২০০ ফুট খুলে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু গরুর গাড়ির দাপট বেশ চিন্তায় ফেল ব্রিটিশ প্রশাসনকে৷ দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৩৭ সালে শুরু হয় ক্যান্টিলিভার সেতুর কাজ। গাঁথা হয় অধুনা হাওড়া ব্রিজ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর। ১৯৪৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি৷ পৃথিবীর আকাশ ঢাকা পড়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছায়ায়৷ রাতের অন্ধকারে যাত্রীবিহীন ট্রাম চালিয়ে উদ্বোধন করা হয় বিংশ শতাব্দীর সেই বিস্ময় জাগানো সেতুর। এরপর গঙ্গা নদীর উপরে গড়ে উঠেছে দ্বিতীয় হুগলি সেতু৷ সেই সমস্ত পর্ব কাটিয়ে এবার দেশের প্রথম ‘মেট্রো’ শহর কলকাতার মুকুটে জুড়বে নতুন পালক। আগামী ৯ এপ্রিল, রবিবার ইস্ট-ওয়েস্টা রুটে প্রথমবার গঙ্গার তলদেশ দিয়ে গড়াবে মেট্রো রেলের চাকা। তবে ওইদিন শুরু মহড়া দেওয়া হবে। বউবাজারের বিপর্যয়ের পর থেকে গঙ্গাবক্ষের এই প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই ক্ষিপ্রতার সঙ্গে হাওড়া ময়দান থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত রুটটি চালু করতে চাইছে রেল।
হতে পারে এটা গঙ্গার তলদেশ দিয়ে মেট্রো রেলের মহড়া দৌড়৷ কিন্তু তাতে ঝামেলা বিন্দুমাত্র কম নয়। ৯ এপ্রিল সকালে প্রথমে সল্টলেক ডিপো থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত একটি রেককে নিয়ে আসা হবে। যেহেতু বউবাজার জট কাটিয়ে তারপরের লাইনে আর বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ করা যায়নি, তাই ভিন্ন পথ নিতে হচ্ছে৷ শিয়ালদহ থেকে যান্ত্রিকভাবে সেটি টেনে নিয়ে যাওয়া হবে এসপ্ল্যানেডে। তারপর ফের মিলবে থার্ড লাইনের সংযোগ৷ তার পর রেকটি মহাকরণ, হাওড়া স্টেশন পেরিয়ে গঙ্গার নীচ দিয়ে পৌঁছবে হাওড়া ময়দান৷ এ প্রসঙ্গে কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হরিনাথ জয়সওয়াল বলেন, ৯ এপ্রিল মেট্রোর ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। ওইদিন গঙ্গার নীচ দিয়ে প্রথমবার কোনও রেক যাবে। আগামী ছয় মাস ট্রায়াল চলবে৷ বউবাজার জট না কাটা পর্যন্ত হাওড়া ময়দান থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত ভাবে মেট্রো চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন