নয়াদিল্লি: তাঁর ক্রিকেটীয় জীবন কোনও রূপকথার চেয়ে কম নয়৷ সেই ইতিহাসের পরতে পরতে রোমাঞ্চ৷ বহু লড়াই করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি৷ মহেন্দ্র সিং ধোনি থেকে হয়ে উঠেছেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’৷ কিন্তু, সেই রূপকথার গল্প কি এবার ফুরতে চলেছে? তবে কি ক্রিকেট কেরিয়ারের শেষ লগ্নে এসে গিয়েছেন প্রাক্তন অধিনায়ক? সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়ে শহরে এসেছেন ধোনি৷ তবে এদিন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ দেখাল মাহিকে৷ বললেন, ‘‘কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে গিয়েছি৷ আর যে ক’দিন ক্রিকেট খেলবো, উপভোগ করবো। এটাই গুরুত্বপূর্ণ।”
ধোনির অবসর নিয়ে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে৷ তবে শেষ বেলায় পৌঁছেও তারকা ধোনি৷ চলতি আইপিএল-এ তাঁর মধ্যে বারবার উঁকি দিয়েছে পুরনো ধোনির ঝলক৷ ছ’ছটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন৷ ব্যাটিং অর্ডারে নীচের দিকে নেমেও মারকাটারি ব্যাট করে রান তুলেছেন৷ হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মার্করামের যে ক্যাচটি তিনি লুফেছিলেন, সেটার জন্য সেরা ক্যাচের সম্মান দেওয়া যেতেই পারে৷ কিন্তু সেরা ক্যাচের জন্য ধোনিকে মনোনীত করা হয়নি।
এই ক্যাচ প্রসঙ্গে ধারাভাষ্যকর হর্ষ ভোগলের কাছে ধোনি বলেন, ‘‘আমার পজিশন ঠিক ছিল না। যেহেতু গ্লাভস পরে থাকি, তাই সকলে ভাবে এটা খুব সহজ। আমার মনে হয়েছে দুর্দান্ত ক্যাচ। শুধুমাত্র দক্ষতার দিক দিয়ে নয়, কখনও কখনও উইকেট কিপার ঠিক জায়গায় না দাঁড়িয়েও ক্যাচ ধরে ফেলে। এই মুহূর্তে রাহুল দ্রাবিড়ের একটা ম্যাচের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। এরকমই একটা অনবদ্য ক্যাচ ধরেছিলেন দ্রাবিড়। বয়স যত বাড়তে থাকে অভিজ্ঞতাও বাড়ে। সবাই শচীন তেণ্ডুলকর নয়, যে ১৬-১৭ বছর বয়সে খেলা শুরু করে।” এ কথা শোনার পর হর্ষ ভোগলে রসিকতা করে বলেন, ‘‘তোমার বয়স খুব একটা বেশি নয়।’’ বর্ষীয়ান ধারাভাষ্যকারকে সঙ্গে সঙ্গে থামিয়ে ধোনি বলেন, ‘‘ডেফিনিটলি ওল্ড। এটাই সত্যি। এর থেকে পালিয়ে যেতে পারি না৷’’
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ক্যাপ্টেন কুল এও বলেন, ''আমার কেরিয়ারের শেষ পর্ব, তাই এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আমি যতটা সম্ভব উপভোগ করতে পারি। এম.এ. চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে খেলা সবসময়ই স্পেশ্যাল। এখানকার মানুষ অনেক স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়েছেন। এখানকার মানুষ আমার কথা শোনার জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকেন।'' তাঁর এই মন্তব্যের পরই উস্কে ওঠে জল্পনার ইঙ্গিত৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন