কলকাতা: বেশ কিছুদিন আগেই বিদায় নিয়েছে শীত। এসে পড়েছে গ্রীষ্ম। এই সময় শরীর স্বাস্থ্যের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন৷ যত্ন নেওয়া উচিত চোখেরও৷ কারণ, ঋতু বদলের এই সময় কনজাংটিভাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল৷ সোজা বাংলায় যাকে বলে ‘জয় বাংলা’ বা ‘চোখ ওঠা’৷ এর লক্ষণ হল টকটকে লাল চোখের সঙ্গে পিচুটি, জল ঝরা! এই সময় সূর্যের দিকে তাকানো তো দূরস্ত, রোদচশমা ছাড়া বাইরে বেরনোই দুষ্কর। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ খোলাটাও কম যন্ত্রণার নয়! সব মিলিয়ে অফিস-কাছারি, স্কুল, কলেজ ছুটি নিয়ে বাড়িতে বসে থাকা৷
‘জয় বাংলা’র কবলে পড়ে ‘অচ্ছুত’ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে আচমকাই এই রোগের চরিত্র বদলে চিন্তিত চিকিৎসকরা। তাঁদের একাংশের কথায়, আগে কনজাংটিভাইটিস হত মূলত ব্যাক্টিরিয়ার প্রভাবে৷ তবে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ব্যাক্টিরিয়ার পাশাপাশি ভাইরাসের প্রভাবেও চোখের এই অসুখ হচ্ছে৷ হঠাৎ করে এই চরিত্র বদলের ফলে শুধু উপসর্গেই বদল ঘটেনি, বেড়েছে ভোগান্তির মাত্রাও।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ব্যাক্টিরিয়াঘটিত কনজাংটিভাইটিসের ক্ষেত্রে মোটামুটি সাত দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠতেন আক্রান্ত ব্যক্তি৷ এক্ষেত্রে সময় লাগছে প্রায় ১১ দিন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সুস্থ হতে তার চেয়েও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে অন্যকে সংক্রমিত করার ক্ষমতা থাকছে প্রায় দু’সপ্তাহ। ভাইরাস ঘটিত কনজাংটিভাইটিসের ক্ষেত্রে চোখে তেমন পিচুটি না হলেও, চোখের পাতা ফোলা, চোখ করকর করা, চোখে জ্বালা ভাবের সঙ্গে সর্দি-জ্বর, কানের কাছে গ্ল্যান্ড ফোলার মতো সমস্যাগুলি দেখা যাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। উল্লেখ্য বিষয় হল, ব্যাক্টিরিয়াঘটিত কনজাংটিভাইটিস চোখের কর্নিয়াকে সে ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না৷ তবে এই রোগ ভাইরাসঘটিত কারণে হলে কর্নিয়ার মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে৷ সেই সঙ্গে অন্যকে সংক্রমিত করার ক্ষমতাও এর অনেকটাই বেশি। তাই কনজাংটিভাইটিস হলে বাজারচলতি স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ থেকে দূরে থাকার পরামর্শই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কনজাংটিভাইটিসের এই বদলে যাওয়া চরিত্রের জন্য চিকিৎসকেরা মূলত আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনাকেই দায়ি করেছেন৷ এছাড়াও শীতের শুরুতে বাতাসে প্রচুর পরিমাণ ধূলিকণার উপস্থিতি এর জন্য দায়ী বলে মনে করছেন তাঁরা।
কনজাংটিভাইটিসে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সতর্কতা রয়েছে৷ যেমন-
*আগুন, তাপ, ধুলোবালি, চড়া আলো বা রোদ এড়িয়ে চলুন।
* ময়লা-আবর্জনাযুক্ত, স্যাতসেঁতে জায়গায় না যাওয়াই শ্রেয়৷
* অপরিষ্কার হাত বা কাপড় দিয়ে কোনও ভাবেই চোখ মুছবেন না৷ এতে সংক্রমণ আরও বাড়ে৷
* এই সময় নদী বা পুকুরে স্নান করাটা বিপজ্জনক৷
* যত দিন না কনজাংটিভাইটিস সম্পূর্ণ সেরে যাচ্ছে, তত দিন অধিকাংশ সময় চোখ কালো চশমায় ঢেকে রাখুন৷
* অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন৷ না হলে অন্যরাও আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে সংক্রমিত হতে পারেন৷
* এই সময় রোগীর কোনও জিনিস অন্য কারও ব্যবহার না করাই উচিত৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন