তেহট্ট: ভালোবাসার মোহে ছোট ছোট তিন সন্তানকে নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে স্বামীর ঘর ছেড়েছিলেন গৃহবধূ৷ বথর তিনেক চুটিয়ে সংসারও করেন তাঁরা৷ কিন্তু, আচমকাই প্রেমিকের মোহভঙ্গ৷ শুক্রবার নতুন করে ছাদনাতলায় যান তিনি৷ শুধু তাই নয়, বিয়ে করে সোজা একেবারে শ্বশুর বাড়িতে ঘাঁটি গাড়েন ওই যুবক। খবর পেয়েই প্রেমিকের শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন ওই গৃহবধূ। প্রতারণার অভিযোগ তুলে ধরনায় বসেন তিনি৷ কিন্তু সেখান থেকে জোর করে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন প্রেমিক সহ তাঁর নতুন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এই নিয়ে দু’পক্ষের তীব্র বচসা বাঁধে৷ পরিস্থিতি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। অবশেষে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে ওঠে করিমপুর থানার কাঁঠালিয়া এলাকায়।
চোদ্দ বছর আগে নদিয়ার থানারপাড়া থানা এলাকায় এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল বছর ত্রিশের ওই গৃহবধূর৷ বিয়ের কয়েক বছর পর শ্বশুরবাড়ির ঠিক পাশের বাড়ির ১৩ বছরের এর কিশোরের প্রেমে পড়েন তিনি। ওই কিশোরও বৌদি বলতে অজ্ঞান৷ ইতিমধ্যে ওই গৃহবধূর দাম্পত্য এক দশক পার করেছে। তাঁর তিন সন্তানও রয়েছে। পাশের বাড়ির ওই কিশোরও এখন যুবক৷ হয়স হলেও তিনি কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিলেন না৷ ফলে সন্দেহ হয় পরিবারের৷ ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, পাশের বাড়ির বৌদির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। এর পরেই ওই গৃহবধূর সঙ্গে পালিয়ে যান ওই যুবক। সঙ্গে তিন সন্তানকেও নিয়ে যান ওই গৃহবধূ। মাস তিনেক ভিন রাজ্যে কাটিয়ে ফের এলাকায় ফেরেন তাঁরা। কিন্তু ওই মহিলা আর শ্বশুর বাড়ি ফিরে যাননি৷ বরং ওই যুবককে বিয়ে করেই সংসার পাতেন৷ ওই গৃহবধূর অভিযোগ, তিন বছর স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই সংসার করেছেন তাঁরা৷ এখন লুকিয়ে অন্য এক যুবতীকে বিয়ে করেছে তাঁর প্রেমিক৷ ওই যুবককে ফিরে পেতে তাঁর শ্বশুরবাড়ির সামনে ধরনায় বসেন ওই গৃহবধূ।
তাঁর বক্তব্য, ‘ও আমাকে বিয়ে করেছিল। আমার সঙ্গে তিন বছর থেকেছে, সহবাস করেছে। এখন আমাকে লুকিয়ে নতুন করে বিয়ে করেছে। ওকে ছাড়া আমি বাঁচবো না।’ অন্যদিকে, ওই যুবক বলেন, ‘আবেগের বশে একটা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলাম। এভাবে বিয়ে করতে পারব না। সবকিছু মিটে গিয়েছে। ও নাটক করছে।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন