কলকাতা: উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে এক নাবালিকা ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। পরিবারের দাবি ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে তাকে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি বিষ খেয়েই আত্মঘাতী হয়েছে সে। এই ঘটনার পিছনে যে কারণই থাকুক না কেন, সবচেয়ে বড় কথা হল অকালে ঝরে গিয়েছে একটা তাজা প্রাণ। আর সেই ছাত্রীর মৃতদেহ পুলিশ যেভাবে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছে তার নিন্দায় সরব হয়েছে রাজ্যবাসী। এরপরই দেখা গিয়েছে থানায় হামলা চালিয়েছে উত্তেজিত জনতা। পুলিশকে বেধড়ক মারধরও করা হয়েছে। আগুন লাগানো হয়েছে পুলিশের গাড়িতে। যেভাবে পুলিশের উপর হামলা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দার। এভাবে আইনরক্ষকদের উপরে যেভাবে আক্রমণ হয়েছে তা একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়। কিন্তু প্রশ্ন হল পুলিশের উপর মানুষের ক্ষোভ এত বাড়ছে কেন? মাস খানেক আগেই তিলজলা-কাণ্ডে থানায় হামলা চালিয়েছিল উত্তেজিত জনতা। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে দেদার ইট-পাথর ছোঁড়ে উন্মত্ত জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেয়ে যায় পুলিশ। এরপরই সামনে এসেছে কালিয়াগঞ্জের ঘটনা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে পুলিশের উপর কেন এত বিরক্ত সাধারণ মানুষ?
বিরোধীদের অভিযোগ কলকাতা তথা রাজ্য পুলিশের একাংশ সরাসরি শাসকদলের নিয়ন্ত্রণে থেকে কাজ করছে। পুলিশের উপর মানুষের ভরসা তাই দিন দিন কমছে। যদিও শাসক দল এই অভিযোগ সব সময়ই অস্বীকার করে। কিন্তু সাধারণ মানুষ মনে করেন বিরোধীরা যে অভিযোগ করে থাকে তার অনেকটাই সারবত্তা রয়েছে। কিছুদিন আগেই কংগ্রেসের এক নেতাকে মিথ্যা মাদক মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার করার অভিযোগ ওঠে ব্যারাকপুর মহকুমার এক পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে। সেই ব্যক্তি আদালতের দ্বারস্থ হন।
এরপর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কড়া নির্দেশে জানান ওই ব্যক্তিকে যেভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে তা একেবারেই ঠিক নয়। সেই সঙ্গে বিচারপতি নির্দেশে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকর্মীকে দু'লক্ষ টাকা দিতে হবে ওই ব্যক্তিকে। সেই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে জরিমানার মাধ্যমে এমনই কড়া পদক্ষেপ করেছে আদালত। কংগ্রেসের অভিযোগ ওই ব্যক্তি বিরোধী দল করেন বলেই শাসক দলের নির্দেশে তাঁকে এভাবে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনার আগে কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচীর বাড়িতে মধ্যরাতে ঢুকে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। তা নিয়েও রাজ্য জুড়ে নিন্দার ঝড় হয়ে যায়। সেই বিষয়টি নিয়েও পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি।
গ্রেফতার হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই জামিন পেয়ে গিয়েছিলেন কৌস্তভ। তবে ঘটনা হল সবাই কিন্তু আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন না। তাই মাঝেমধ্যেই পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও অনেকেরই কিছু করার থাকে না। পুলিশের একাংশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না, এই ধারণা কমবেশি সাধারণ মানুষের মনে রয়েছে। মূলত সেই কারণেই পুলিশের উপর ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সেই ভুল ভাঙানোর দায়িত্ব কিন্তু পুলিশকেই নিতে হবে। নাহলে আগামী দিনে আরও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৩
Home
Bengal
Headlines
Politics
পুলিশের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ দিন দিন এত বাড়ছে কেন? নেপথ্যে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ?
পুলিশের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ দিন দিন এত বাড়ছে কেন? নেপথ্যে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ?
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
About Aaj Bikel
Aaj Bikel is India leading online news site (Bengali, English) which offers the latest International and Nationwide news on Education, Jobs, current affairs, politics, entertainment, real estate, city news, health, career, lifestyle, food that enables its viewers to stay abreast with all the latest developments in Bengali and English.

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন