কলকাতা: সীমান্তে প্রহরারত বিএসএফ-এর গতিবিধির উপর নজর রাখবে স্থানীয় ক্লাব৷ মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশে শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে ৷ তবে বিএসএফ-কে নিয়ে এর আগেও একাধিকবার মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ গরু পাচার কাণ্ড থেকে নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার, বারংবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার একেবারে বিএসএফ-এর গতিবিধির ওপর নজরদারির 'দায়িত্ব' তিনি সঁপলেন স্থানীয় ক্লাবগুলির উপর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরমে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অতীতেও মমতার 'ক্লাব প্রীতি'র বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। প্রশ্ন উঠেছে, যে সরকার নিজের কর্মীদের ডিএ দিতে পারে না, সেই সরকার কীভাবে ক্লাবগুলির পিছনে এত খরচ করে? এই বিতর্কের মাঝেই এবার বিএসএফ-এর ওপর নজরদারির 'দায়িত্ব' পেল ক্লাবগুলি।
অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা কর্মতীর্থগুলি নিয়ে বুধবার নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রায় প্রতিটি জেলায় বিপুল অর্থ ব্যায়ে কর্মতীর্থ তৈরি করেছিল সরকার৷ কিন্তু, সেগুলির বেশির ভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের কোনও আগ্রহ নেই। অভিযোগ, দোকান খুলে ব্যবসা করার জন্য নির্ধারিত এই পরিকাঠামোগুলি উপযুক্ত জায়গায় গড়ে তোলা হয়নি। দীর্ঘ কাল ধরে পড়ে থাকা সেই কর্মতীর্থগুলি পরিচালনার ভার এবার এলাকার বিভিন্ন ক্লাবের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে আসেছেন যে, বিএসএফ-কে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে৷ নবান্ন সূত্রের খবর, এ বার বিএসএফের ‘বাড়াবাড়ন্ত’ ঠেকাতে স্থানীয় ক্লাবগুলিকে সক্রিয় করার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা। সূত্রের খবর, বুধবারের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রস্তাব দেন, পুলিশকে যেমন গোয়েন্দা-তথ্য সংগ্রহে তৎপর হতে হবে, তেমনই সীমান্তবর্তী এলাকার ক্লাবগুলির মাধ্যমে বিএসএফের বাড়াবাড়ির উপরে নজরদারি চালানোর প্রয়োজন রয়েছে।
প্রশাসনিক বৈঠকে মমতার অভিযোগ, গ্রামে গ্রামে ঢুকে অত্যাচার চালাচ্ছে বিএসএফ বাহিনী। তাঁর আশঙ্কা, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে গ্রামে ঢুকে 'তৎপরতা' বাড়তে পারে বিএসএফ। মমতার নির্দেশ, বিএসএফ-এর টহলদারি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য যেন স্থানীয় থানার ওসি-র কাছে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পুলিশের দায়িত্ব, বিএসএফ-এর নয়।
এদিকে মমতার এই 'নির্দেশ'কে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা৷ এই নিয়ে বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'জাতীয় পতাকার সামনে বসে মুখ্যমন্ত্রী বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে যেভাবে কথা বলছেন এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছেন, যে সাংঘাতিক মনোভাবের প্রতিফলন।'

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন