নিজস্ব প্রতিনিধি: নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের শিকড় কতদূর যে বিস্তৃত তার অনুসন্ধানে তৎপরতা বাড়িয়েছে সিবিআই এবং ইডি। সেখানে অদ্ভুতভাবে দেখা যাচ্ছে শাসকদলের বহু নেতাকর্মী জড়িয়ে রয়েছেন এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে। ঘটনা চক্রে তদন্তকারীদের আতস কাচের নীচে যারা রয়েছেন বা ইতিমধ্যেই যারা ধরা পড়েছেন তাঁদের সিংহভাগ শাসকদলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। তাই প্রশ্ন, শাসক দলের বড় অংশই কি বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে কম বেশি জড়িয়ে পড়েছেন? আর যাদের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে কী তৃণমূল নেতৃত্ব কোনও ব্যবস্থা নেবেন?
বাংলা নববর্ষের দিন থেকে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের তদন্তে অনেকটাই গতি বাড়িয়েছে সিবিআই। তল্লাশি চালানো হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। তবে খবরের শিরোনামে এসেছেন মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। তাঁর বাড়িতে চলছে ম্যারাথন তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে তথ্য-প্রমাণ লোপাট করার জন্য বিধায়ক নিজের দুটি মোবাইল ফোন পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। তার একটি উদ্ধার হলেও অপরটির খোঁজ পাওয়া যায়নি। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে তদন্ত যেভাবে এগোচ্ছে তাতে জীবনকৃষ্ণর গ্রেফতার হওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপির উস্কানিতেই বেছে বেছে তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের হেনস্থা করা হচ্ছে এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে। এই আবহের মধ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন অবস্থা যে দিকে যাচ্ছে তাতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তৃণমূলের আরও বহু বিধায়ক গ্রেফতার হবেন। সেক্ষেত্রে তৃণমূল বিধায়কের সংখ্যাটা একশোর নীচে নেমে আসবে বলে তিনি কটাক্ষ করেছেন।
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি তথা তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য, বহিষ্কৃত তৃণমূলের দুই যুবনেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুন্তল ঘোষ। এছাড়া একঝাঁক শিক্ষাকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন, যাদের সঙ্গে তৃণমূলে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে সবাই জানেন। এর পাশাপাশি গরু পাচার কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দুর্নীতির ঘটনায় তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন শাসকদলের আরও বহু নেতাকর্মী, এমনটাই সূত্রের খবর। অর্থাৎ সার্বিকভাবে দুর্নীতির সার্কিটের সঙ্গে তৃণমূলের যে প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে সেটা দেখাই যাচ্ছে। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগে দুর্নীতির ঘটনায় যেভাবে তৃণমূল নেতাদের নাম জড়িয়ে পড়ছে তা দলের পক্ষে একেবারেই ভাল বিজ্ঞাপন হচ্ছে না। রাজ্যবাসীর একটা বড় অংশের মনে এই ধারণা চলে এসেছে যে, শাসক দলের সবাই বোধহয় দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু নিশ্চয়ই সেটা নয়। তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মী সততার সঙ্গে রাজনীতি করে চলেছেন। তবে বিভিন্ন দুর্নীতির ঘটনায় যেভাবে তৃণমূলের একশ্রেণির নেতাদের নাম জড়িয়ে পড়েছে, তাতে যেন অলিখিতভাবে দুর্নীতির গন্ধ তৃণমূলের গায়ে সেঁটে গিয়েছে। যে বিষয়টি প্রবল অস্বস্তিতে ফেলেছে শাসক দলকে। এই জায়গা থেকে তৃণমূল কীভাবে বেরিয়ে আসতে পারে সেদিকেই চোখ থাকবে সবার।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন