নিজস্ব প্রতিনিধি: পঞ্চায়েত নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। কিন্তু নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও পর্যন্ত ঘোষণা হয়নি। তবে আইনি জটিলতা কেটে যাওয়ায় যে কোনও সময়ে নির্বাচন ঘোষিত হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। এই নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার জন্য যথারীতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আর সেটাই ভাবাচ্ছে তৃণমূলকে। সকলেই যদি প্রার্থী হতে চান তাহলে সমস্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেই চিন্তা যখন করছেন শীর্ষ নেতৃত্ব, ঠিক তখনই কাকদ্বীপের ঘটনা সামনে এল। কাকদ্বীপ বিধানসভার ঋষি বঙ্কিম গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪২ নম্বর বুথ এলাকায় পোস্টারে দেখা যাচ্ছে পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন অনামিকা বাগ। ব্লক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁর নাম নাকি ঘোষণা করা হয়েছে এই দাবি করে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা অনামিকার হয়ে প্রচার পর্যন্ত শুরু করে দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় অস্বস্তি বেড়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের।
তবে কি নীচুতলায় দলের নিয়ন্ত্রণ থাকছে না? এরকম ভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেলে সমস্যা যে আরও বাড়বে সেটা স্পষ্ট। সবচাইতে বড় কথা তৃণমূল নেতৃত্ব বারবার জানাচ্ছেন পঞ্চায়েতের প্রার্থী তালিকা ঠিক করা হবে উপরতলা থেকে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাকর্মী ছাড়া পঞ্চায়েতের টিকিট দেওয়া হবে না কাউকে, এ কথা বারবার বলছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেটা নিছকই কথার কথা থেকে যাবে কিনা সেই চর্চাও শুরু হয়েছে। আসলে নীচুতলার নেতাকর্মীরা চান পঞ্চায়েতের সদস্য হয়ে এলাকায় কর্তৃত্ব বজায় রাখতে। তাই স্থানীয় পর্যায়ের এই নির্বাচনে টিকিট প্রত্যাশীর সংখ্যা সব সময়েই দেখা যায়। অর্থাৎ কাকদ্বীপের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন করে দেখলে ভুল হবে। এই প্রবণতা কমবেশি সব জায়গাতেই রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করে। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের টিকিট না পেলে দলের নেতাকর্মীদের একটা বড় অংশ যে নির্দল প্রার্থী হয়েও দাঁড়িয়ে যাবেন সেই খবরও পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ যে কোনও ভাবে পঞ্চায়েতের সদস্য হতে হবে। আর প্রধান বা উপপ্রধান হলে তো কথাই নেই। তাই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেলে এই প্রবণতা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কীভাবে বন্ধ করবেন সেটাই দেখার।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন