নিজস্ব প্রতিনিধি: তৃণমূলের পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের বহু খবর তিনি পেয়ে যান বলে মাঝেমধ্যেই বলতে শোনা যায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। যে বিষয়টি নিয়ে বহু সময় গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন বিজেপির কাছ থেকেও বহু খবর তিনি পেয়ে যান। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তার মানে এটাই দাঁড়াচ্ছে শাসক-বিরোধী সবারই সোর্স নেটওয়ার্ক অত্যন্ত স্ট্রং হয়ে উঠেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে মমতার আপসহীন মনোভাবের কথা সকলেরই জানা। আর তাঁদেরই মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়মিত খবর দিয়ে থাকেন! সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্যে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে বাংলাকে যাতে টাকা না দেওয়া হয় সেই পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। তিনি নাকি বিজেপি সূত্রেই এমন খবর পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘বিজেপির লোকেরা আমায় খবর দিয়েছে যে, লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের বকেয়া মেটাবে না কেন্দ্র।’’ লোকসভা ভোটের জন্যই এমনটা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘‘ওরা আমাদের অনেক উন্নয়নের প্রকল্পও বন্ধ করে দিয়েছে। সরাসরি বলেছে। অনেক বিজেপির লোকই আমাদের বলেছে, ২০২৪ পর্যন্ত আমরা বাংলাকে টাকা দেব না। কেন না, তখন লোকসভা নির্বাচন। এ সব কী? এটা আমাদের প্রাথমিক অধিকার। এটা জনাদেশ। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। এটা সরকারের কর্তব্য। ওরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে জিএসটি সংগ্রহ করে। ওরা সব কর নেয়। রাজ্য সরকারের অধিকার নেই? অথচ আমাদের শেয়ার দেয় না। একশো দিনের কাজের লোকেদের মাইনে দেওয়া হচ্ছে না। ওঁরা ভুগছেন।''
দীর্ঘ দিন ধরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বকেয়া টাকা না পাওয়ার অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার তিনি দাবি করলেন বিজেপির কাছ থেকেই তিনি খবর পেয়েছেন বাংলাকে নাকি বরাদ্দ দেবে না কেন্দ্র। স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর এমন দাবি নিয়ে যথেষ্ট কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৫ বছর সাংসদ ছিলেন। তার ভিত্তিতে বিভিন্ন দলের নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে মমতার যোগাযোগ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকারের নানা তথ্য মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যাবেন এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকতে পারে না। একই ভাবে শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন তৃণমূল করার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের একাধিক দফতরের মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অর্থে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর কম বেশি যোগাযোগ থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। তাই মুখ্যমন্ত্রী বকেয়া না পাওয়া প্রসঙ্গে যে দাবি করেছেন তা নিয়ে জল্পনা চলতেই থাকবে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি তৃণমূল সরকার হিসেব দিচ্ছে না বলেই বকেয়া আটকানো হয়েছে। লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই চাপানউতোর যে চলতেই থাকবে তা স্পষ্ট।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন