তেল ছেড়ে ঘি খান, দেশবাসীকে এবার বলবে কেন্দ্র! এই উদ্যোগ আদৌ কাজে আসবে? - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৩

তেল ছেড়ে ঘি খান, দেশবাসীকে এবার বলবে কেন্দ্র! এই উদ্যোগ আদৌ কাজে আসবে?



নিজস্ব প্রতিনিধি:  হেঁশেলে তেলের ব্যবহার যে কতটা জরুরি সেটা সকলেরই জানা। রান্নার প্রধান উপাদান তেল। তেল ছাড়া রান্না সম্ভব নয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার আমজনতাকে এবার এই বার্তা দিতে চাইছে যে, তেল ছেড়ে সবাই যেন যতটা সম্ভব বেশি করে রান্নার কাজে ঘি ব্যবহার করেন। অর্থনৈতিক কারণেই কেন্দ্র এই বার্তা দিতে চাইছে। উল্লেখ্য প্রতি বছর ভোজ্য তেল আমদানি করতে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়  নয়াদিল্লিকে। সেখানে ঘি ব্যবহার করলে তেলের আমদানি কমবে। সবচেয়ে বড় কথা বিগত কয়েক বছরে দেশে দুগ্ধ উৎপাদনের পরিমাণ বহু গুণে বেড়েছে। কিন্তু দুগ্ধজাত শিল্পের যতটা উন্নতি হওয়ার কথা ছিল সেই অনুপাতে তা হয়নি। মূলত গুঁড়ো দুধ বা মাখনের মতো দুগ্ধজাত শিল্প রয়েছে। কিন্তু সেগুলির বিদেশে তেমন চাহিদা নেই। তাই দেশজুড়ে রান্নার কাজে যদি ঘিয়ের ব্যবহার বাড়ে তাহলে দুগ্ধজাত শিল্পের বাজারের ছবিটা রাতারাতি বদলে যাবে। 


জানা গিয়েছে ২০৪৭ সালের মধ্যে প্রতি বছরে ৭০০ মেট্রিক টন দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা  নিয়েছে কেন্দ্র। তাই যে সমস্ত পশু দুগ্ধ উৎপাদন করতে পারে তাদের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। পরিসংখ্যান বলছে বর্তমানে মাথাপিছু ৪৪৪ মিলিলিটার দুধ উৎপাদন হয় দেশে। সেখানে ২০৪৭ সালের মধ্যে তা বাড়িয়ে এক লিটার করার টার্গেট নিয়েছে কেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতে যদি ঘিয়ের ব্যবহার বেড়ে যায় তাহলে দেশের অর্থনীতির চাঙ্গা হবে বলেই কেন্দ্র মনে করছে। কারণ সয়াবিন বা পাম তেল আমদানির খরচ কমবে। সেই সঙ্গে যত বেশি ঘি উৎপাদন হবে তত দুগ্ধজাত শিল্পের বাজার বাড়বে। আর সেই লক্ষ্যে পশুপালকদের বিপুল ছাড় দিচ্ছে কেন্দ্র। 


কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। কোটি কোটি গরিব মানুষের পক্ষে কি সম্ভব সস্তার তেল ছেড়ে ঘি দিয়ে রান্না করা? খোলা বাজারে সরষের তেল কেজি প্রতি বর্তমানে ১৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর ব্র্যান্ডেড কোম্পানির তেলের ক্ষেত্রে দরটা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। সেখানে কেজি প্রতি ঘি ৩০০-৪০০ টাকার কমে কোথাও পাওয়া যায় না। এছাড়া ব্র্যান্ডেড কোম্পানির ঘিয়ের কেজি প্রতি দাম ৭০০-৯০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। তাই কেন্দ্র যে লক্ষ্যে এমন বার্তা দিতে চাইছে তার বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। করোনার সময় থেকে ৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে চাল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের দাবি এই চাল না দিলে এই বড় অংশের মানুষকে অনেক দিন হয়ত অনাহারে থাকতে হতো। আর সেটাই যদি হবে তাহলে কি এই অংশের মানুষের কাছে তেল ছেড়ে ঘি দিয়ে রান্না করা আদৌ সম্ভব? কত টাকা উপার্জন করেন যাতে রান্নার জন্য এতটা ঘি কিনতে পারবেন তাঁরা? এই প্রশ্ন অবশ্যই উঠছে। তাই কেন্দ্র যে লক্ষ্যে দেশবাসীকে এই বার্তা দিতে চাইছে তা কতটা বাস্তবায়িত হবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন