নয়াদিল্লি: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও বিরাট কোহলির সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা। আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের ম্যাচ চলাকালীন যে যে ঘটনাক্রম সামনে এসেছে, তা ক্রিকেট দুনিয়ায় নতুন করে ঝড় তুলেছে৷ ওই দিন আমনের ক্যাচ তালুবন্দি করার পরই দিল্লির ডাগআউটের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকান কোহলি। সেই সময় সেখানে বসেছিলেন দলের ‘ডিরেক্টর অব ক্রিকেট’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এর পর ম্যাচ শেষে দু’জনে সৌজন্যের খাতিরে হাতটুকুও মেলাননি। এর পরেই ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে আনফলো করে দিয়েছেন তাঁরা। মাঠের সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মানসিক অবসাদ নিয়ে মুখ খুললেন বিরাট।
গত বছর ক্রিকেটীয় জীবন থেকে ৪২ দিনের বিরতি নিয়েছিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক। সেই সময় তাঁর মনের অবস্থা কী হয়েছিল সে কথা তুলে ধরেন তিনি। আইপিএলের ডিজিটাল সম্প্রচারকারী মাধ্যমে একটি সাক্ষাৎকারে নিজের মানসিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন বিরাট৷ প্রাক্তন আরসিবি অধিনায়ক বলেন, ‘‘মিথ্যা কথা বলব না। খুব পরিশ্রম হচ্ছিল। এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, সবার সঙ্গে আমিও ক্রিকেটের ইঁদুরদৌড়ে সামিল হয়েছিলাম৷ তবে মানসিক ভাবে আমি দুর্বল হয়ে পড়ছিলাম। হাঁপিয়ে উঠছিলাম। এমনভাবে আরও কিছু দিন চললে আমি হয়তো পাগল হয়ে যেতাম। কিন্তু, সেই সময় অনুষ্কা আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।’’
তাঁর জীবনে স্ত্রী অনুষ্কার গুরুত্ব কতখানি, তা আরও এক বার প্রকাশ করেন বিরাট। তাঁর কথায়, ‘‘সেই সময় অনুষ্কা সব সময় আমার পাশে ছিল। ও সবটা কাছ থেকে দেখেছে। বুঝেছে। ও নিজেও এক জন তারকা। কী ভাবে পেশা ও ব্যক্তিগত জীবনকে আলাদা রাখতে হয় সেটা ও জানে। অনুষ্কা আমাকে সেটাই শিখিয়েছে। তখন আমরা অনেক বেশি গল্প করতাম। নিজেদের মধ্যে সময় কাটাতাম৷ সেটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।’’
বিরাট বলেন, ভক্তরা আমাকে নিয়ে কী ভাবছেন, সেটা নিয়ে অনেক বেশি ভাবতে শুরু করেছিলাম৷ তাই খেলা উপভোগ করার চেয়ে অনেক বেশি চাপ নিয়ে ফেলেছিলাম। এর খারাপ প্রভাবও পড়ছিল। বিরাটের কথায়, ‘‘একটা সময় আমি অন্যদের নিয়ে বেশি ভাবতাম। ভক্তরা আমার কাছে কী চায়, আমাকে নিয়ে কী ভাবে, সেই সব আমার মাথায় ঘুরত। তার প্রভাব খেলার উপর পড়ছিল। সেই সময় বিরতি নেওয়াটা খুব জরুরি হয়ে পড়েছিল। বিরতির পরে পুরনো মানসিকতা নিয়ে ফের ফিরতে পেরেছি।’’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন