নিজস্ব প্রতিনিধি: বিকেলে ছিল সভা। কিন্তু প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় সেই সভা হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের শর্তসাপেক্ষ নির্দেশে সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার ঝাঁকড়া স্কুল মাঠে সভা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন শুভেন্দু। এদিন শুভেন্দু-সহ বিজেপি নেতারা যে সাদা রঙের টি-শার্ট পরেছিলেন তাতে লেখা ছিল 'নো ভোট টু মমতা'। আর সেভাবেই সভামঞ্চের সুরটা বেঁধে দিয়ে সভা করেছেন শুভেন্দু। আসলে যতদিন যাচ্ছে ততই তৃণমূলের সঙ্গে মূলত টক্কর দিচ্ছেন একা শুভেন্দুই। কার্যত লড়াইটা যেন শুভেন্দু বনাম তৃণমূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শুভেন্দুর প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে তৃণমূল বাধা দিচ্ছে বলে বিজেপির অভিযোগ। সেক্ষেত্রে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে কর্মসূচি পালন করতে পারছেন বিরোধী দলনেতা। কিন্তু শুভেন্দুকে এত ভয় কেন পাচ্ছে তৃণমূল? কেন তৃণমূলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে শুভেন্দু বেশি করে থাকছেন?
শুভেন্দুর অনুগামীরা মনে করছেন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে দিয়েছিলেন বলেই শুভেন্দুর প্রতি তৃণমূলের এত রাগ। নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর হার তৃণমূলের কাছে যে কতটা বেদনার সেটা সকলেই জানেন। তাই খেজুরিতে সভা করলেও সেখান থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে থাকা নন্দীগ্রামে গেলেন না মুখ্যমন্ত্রী। এমনটাই মনে করে রাজনৈতিক মহল। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর সিঙ্গুরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু একটি বারের জন্যও তিনি নন্দীগ্রামে যাননি। তবে কী এখনও মুখ্যমন্ত্রীকে নন্দীগ্রামের পরাজয় তাড়া করে বেড়াচ্ছে? তাই কি তিনি প্রত্যেকটি সভা থেকে মূলত শুভেন্দুকেই আক্রমণ করে চলেছেন? বারবার শুভেন্দুকে 'গদ্দার' বলে নিশানা করছেন? এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে।
এই আবহের মধ্যে 'নো ভোট টু মমতা' লেখা টি-শার্ট পড়ে শুভেন্দু লড়াইটাকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন। বুঝিয়ে দিচ্ছেন মমতা তথা তৃণমূলের প্রতি তাঁর আগ্রাসন আরও বাড়বে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই মমতা ইস্যুতে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছেন বিরোধী দলনেতা। তাই দেখা যাচ্ছে সুকান্ত মজুমদার বা দিলীপ ঘোষের চেয়ে তৃণমূল অনেক বেশি আক্রমণ করে চলেছে শুভেন্দুকে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে শুভেন্দুর কিছু হারানোর নেই। কারণ তিনি বাঘের পিঠে চেপে বসেছেন। বহু নেতা তৃণমূল ছেড়ে আবার পুরনো দলে ফিরে এলেও শুভেন্দুর ক্ষেত্রে যে সেটা সম্ভব নয় তা সকলেই জানেন। তাই শুভেন্দু দিন দিন তাঁর আক্রমণের তীব্রতা বাড়াচ্ছেন। এই পরিস্থিতির যে বদল হবে না সেটা রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটই বলে দিচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন