কলকাতা: টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার নিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি পিএস নরসিমার বেঞ্চের নির্দেশ আসার পর থেকেই উত্তপ্ত হাই কোর্ট পাড়া৷ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো প্রবীণ আইনজীবীরা তো বলতেও শুরু করেছেন যে, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে শিক্ষা সংক্রান্ত মামলাগুলি এবার সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ, কলকাতা বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে শুক্রবারের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত৷ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, ‘কোনও বিচারপতি তাঁর এজলাসের মামলা নিয়ে কখনওই সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে পারেন না। এমনটা হয়ে থাকলে সেই সব মামলা তাঁর এজলাস থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়াই ভাল।’
মঙ্গলবার সকাল থেকে হাই কোর্ট পাড়ায় অন্যতম চর্চার বিষয় ছিল বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে শিক্ষা সংক্রান্ত মামলাগুলি সরছে কিনা৷ অনেককে আবার এই খবরে বেশ বিমর্ষও মনে হল। এদিন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এজলাসে ঢুকে দেখেন অনেক মামলাকারী সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের দেখে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, একি! আপনারা মুখ শুকনো করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কেন?
সেই সময় এক পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি বলেন, “আপনি চলে যাবেন শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল”। সে কথা শোনার পর বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “কেউ তো আর চিরস্থায়ী নন”।
অপর এক মামলাকারী বলেন, “আপনার মধ্য দিয়ে ভগবান এসেছেন”। তাঁর কথা শুনে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলে ওঠেন, “আমি ভগবান নই…”।
এর পর এজলাসে উপস্থিত কয়েকজন মহিলা মামলাকারীকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আপনাদের সমস্যা কী? এক মহিলা মামলাকারী বলেন, তাঁদের থেকে কম নম্বর পেয়েও অনেকে চাকরি পেয়েছে। তাঁর কথায়, “আমাদের চাকরি চুরি হয়ে গিয়েছে।” শুনেই বিচারপতি বলেন, “তাহলে চোর ধরুন”। ওই মহিলা আরও জানান, অনেকে জমি বাড়ি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা দিয়ে চাকরিতে ঢুকেছেন….।
এদিন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় অবশ্য সাফ জানান, তিনি ইস্তফা দেবেন না৷ শেষ দেখে ছাড়বেন৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন