নিউ ইয়র্ক: পৃথিবীর দিকে ফের দল বেঁধে ধেয়ে আসছে গ্রহাণু। আকারে আয়তনে যেগুলি বিশাল৷ আগামী বৃহস্পতিবার পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসবে এরই মধ্যে একটি গ্রহাণু৷ এই ক’দিনের মধ্যে পাঁচ-পাঁচটি গ্রহাণু পৃথিবীর গা ঘেঁষে বেরিয়ে যাবে৷ এর মধ্যে একটি গ্রহাণুকে নিয়ে বিশেষ ভাবে সতর্ক নাসা৷
মার্কিন গবেষণা সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, যে পাঁচটি গ্রহাণু পৃথিবীর কাছাকাছি আসতে চলেছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের গ্রহাণুটির আয়তন প্রায় ১৫০ ফুট। ওই গ্রহাণুটি যদি পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসে, তাহলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে এই দলে থাকা বাকি গ্রহাণুগুলি আকারে ছোট। এদের নিয়ে তেমন আশঙ্কাও নেই৷
গ্রহাণুগুলির নামকরণও করেছে নাসা। মার্কিন গবেষণা সংস্থা জানাচ্ছে, এই পাঁচটি গ্রহাণুর মধ্যে প্রথম গ্রহাণুটি আয়তনে প্রায় ৪৫ ফুট। এই গ্রহাণুর নাম দেওয়া হয়েছে ২০২৩ এফইউ৬৷ যা সোমবারই পৃথিবীর পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে। দ্বিতীয় গ্রহাণুটি আয়তনে ৮২ ফুটের৷ সেটিরও সোমবার পৃথিবীর পাশ দিয়ে চলে যাওয়ার কথা। এই গ্রহাণুটির নাম ২০২৩ এফএস১১।
নাসা জানাচ্ছে, তৃতীয় গ্রহাণুটির আয়ন প্রায় ৯২ ফুট। এর নাম ২০২৩ এফএ৭৷ মঙ্গলবার এই গ্রহাণুটি পৃথিবীর খুব কাছাকাছি চলে আসবে বলে আশঙ্কা। চতুর্থ গ্রহাণুটি পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাওয়ার কথা বুধবার। এই গ্রহাণুটি আকারে প্রায় একটি বাড়ির সমান৷ যার আয়তন প্রায় ৬৫ ফুট।
তবে নাসার বিজ্ঞানীরা নজর রয়েছেন পঞ্চম এবং শেষ গ্রহাণুটির উপর। এর নাম দেওয়া হয়েছে ২০২৩ এফজেড৩। এই পাঁচটি গ্রহাণুর মধ্যে এটিই আকারে সবচেয়ে বড়৷ এর আয়তন প্রায় ১৫০ ফুট। আগামী ৬ এপ্রিল, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার এই গ্রহাণুটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে চলে আসবে৷ নাসার বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই বিশাল গ্রহাণুটি ঘণ্টায় ৬৭ হাজার ৬৫৬ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। ৬ তারিখ পৃথিবীর সঙ্গে এই গ্রহাণুর দূরত্ব থাকবে মাত্র ৪১ লক্ষ ৯০ হাজার কিলোমিটার। মহাশূন্যের বিচারে এই দূরত্ব খুব বেশি নয়৷
যদিও বিজ্ঞানীদের আশ্বাস, ১৫০ ফুটের এই গ্রহাণু পৃথিবীর উপর কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না৷ এর থেকে পৃথিবীর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে ২০২৩ এফজেড৩-এর গতিবিধির দিকে নজর রাখছে নাসা৷
গ্রহাণুরা প্রায়ই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে৷ তারপর নীল গ্রহের খুব কাছ ঘেঁষে সেগুলি বেরিয়ে যায়। কিছুদিন আগেই একটা বড় গ্রহাণু আচমকা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই গ্রহাণুটির নাম asteroid (199145) 2005 YY128। গ্রহাণুটির ব্যাস ৫৮০ থেকে ১৩০০ মিটারের মধ্যে। গড় ব্যাস প্রায় সাড়ে ন’শো মিটার৷ যা আয়তনের দিক থেকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের চেয়েও বড়।
এরই মধ্যে মাস খানের আগে এক গ্রহাণুর সঙ্গে হাল্কা সংঘর্ষ হয়েছিল পৃথিবীর। কোনও এক ফাঁকে ঢুকে পড়েছিল সে। কিন্তু, তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল৷ অনবরত সংঘর্ষের পর ইংলিশ চ্যানেলের উপর প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটায় সেই গ্রহাণু৷ সেই বিস্ফোরণের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তার শরীর৷ দেখা যায় হাজার হাজার ওয়াটের আলোকরশ্মির বিচ্ছুরণ৷ রাতের আকাশে দেখা যায় আলোর রোশনাই৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন