কলকাতা: মাথার উপর গনগনে সূর্য। চলছে তাপপ্রবাহ৷ বাতাসে আগুনের হলকা৷ এরই মধ্যেই সৌরঝড়ের সতর্কতা দিল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী দু’দিন প্রবল ভাবে উত্তাল হয়ে উঠবে সূর্যের করোনা। আগুনে রশ্মি ধেয়ে আসবে নীলগ্রহের দিকে। সৌরঝড় আর সৌরবায়ুর হলকার জেরে পৃথিবীর নানা প্রান্তে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাসা আরও জানাচ্ছে, প্রায় সাড়ে ৯ কোটি মাইল দূরে অবস্থিত সূর্য থেকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসবে গনগনে সৌররশ্মি। তার পর তা আছড়ে পড়বে ভূপৃষ্ঠের উপর৷ আগামী দু’দিন সৌরঝড়ের প্রভাব পড়বে পৃথিবীর উপর। কেঁপে উঠতে পারে পৃথিবীর চারপাশে থাকা চৌম্বক ক্ষেত্র। দুই মেরুপ্রান্তে দফায় দফায় ঝলক মিলবে মেরুজ্যোতির। পৃথিবীর উপর আক্রমণ হানতে পারে সূর্যের প্লাজমা থেকে আসা ‘করোনাল মাস ইজেকশান (সিএমই)’-ও।
আমাদের পৃথিবীতে যেমন অ্যাটমস্ফিয়ার আছে, তেমনই সূর্যেরও আছে৷ সৌরপৃষ্ঠ বা সারফেস ও তার উপরের স্তরকে বলে সোলার করোনা। এই করোনা স্তর যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকেই সৌরঝড়ের উৎপত্তি। এই করোনা উচ্চতাপমাত্রার প্লাজমার আস্তরণে ঢাকা। এখান থেকেই নির্গত হয় তড়িদাহত কণার স্রোত। প্রচণ্ড গতিতে তা ছড়িয়ে পড়ে মহাকাশে। একেই বলে সৌরঝড়।
সৌরঝড় পৃথিবীর উপর আছড়ে পড়লে, এর শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও আয়নগুলি পৃথিবীর টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ও জিপিএস নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করে দিতে পারে। সৌরঝড়ে স্যাটেলাইটগুলো আক্রান্ত হয় এবং টেলি যোগাযোগে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটে। পাশাপাশি, বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্যেও দায়ী সৌরবায়ু, সৌরঝড় এবং সৌর বিকিরণ। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছে, শক্তিশালী সৌরঝড়ের প্রভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে পৃথিবীর রেডিও ও টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা৷ ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইন্টারনেট ব্যবস্থাও৷ এমনকী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন