নয়াদিল্লি: রায়সাহেব এখন আনপ্রেডিক্টেবল। কলকাতা ছেড়ে দিল্লি যাওয়া ইস্তক তাঁর গতিবিধি রহস্য ঘনূভূত করেছে৷ তাঁর বিজেপি’তে যোগদান নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে৷ এরই মধ্যে মুখ খুললেন মুকুল রায়৷ জানালেন, ছেলের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরেই নাকি তিনি দিল্লি চলে এসেছেন। সেই সঙ্গে নিজেকে বিজেপি’র সদস্য বলেও উল্লেখ করেন মুকুল৷ শুধু তাই নয়, তিনি নিজেকে বিজেপি’র সাংসদ বলেও দাবি করেন৷ সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘খামখেয়ালিপনা করে আমি তৃণমূল ভবনে গিয়ে গলায় উত্তরীয় পরেছিলাম। ওটা ঠিক কথা নয়। আমি বিজেপিতে ছিলাম, বিজেপিতেই আছি।’
এখানেই ক্ষান্ত থাকেননি বিজেপি বিধায়ক৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনেই রাজ্যে ‘পরিবর্তন’ চান রায়সাহেব৷ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক হন মুকুল৷ ফল প্রকাশের পর ফের তৃণমূলে ফিরে যান৷ এবার ফের ফুল বদল করতে চাইছেন মুকুল৷
সোমবার রাতে আচমকাই দিল্লিতে গিয়ে হাজির হন কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক। থানায় গিয়ে বাবার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন ছেলে শুভ্রাংশু রায়৷ তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশ অপরহণের তদন্তও শুরু করেছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে মুকুল এসে বলেন, ‘‘শরীর ভাল ছিল না বলে কিছু দিন পূর্ণ উদ্দমে রাজনীতি করতে পারিনি। এখন শরীর অনেকটাই সুস্থ৷ অমিত শাহজি, নড্ডাজি-র সঙ্গে কথা বলব। বিজেপি করব কি না, এখনও ঠিক করিনি। সে রকম হলে আবার বিজেপি করব।’’
বুধবার সকালে মুকুল উবাচ, ‘‘স্ত্রী বা নিকটাত্মীয়কে হারালে সকলের যেমন মানসিক অবস্থা হয়, তেমনই হয়েছিল, এখন আর নেই। আমি বিজেপিতে ছিলাম, আছি, থাকব।’’ অনেকেই মনে করছেন, মুকুলের দিল্লিযাত্রার সঙ্গে কৈলাসের যোগ থাকতে পারে৷
দিল্লিতে বসেই তৃণমূলের উপরে চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছেন মুকুল। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলে ফেরার সময় স্ত্রীবিয়োগের কারণে মানসিক চাপে ছিলাম। এখন একদম ঠিক আছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃণমূল আর সেই জায়গায় নেই। তৃণমূল যে কাজকর্মগুলো করছে সেগুলো বাংলার পক্ষে মোটেও ভাল নয়। এ জেলে, ও জেলে। এটা মোটেই ভাল জিনিস নয়। এর খেসারত দিতে হবে।’’
রাজ্যে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি৷ মুকুল বলেন, ‘‘ভোট যখন করব, লড়াই যখন করব, তখন পরিবর্তন তো চাইবই। পরিবর্তন দরকার কারণ, বাংলায় একটা অসহ্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন