কলকাতা: তিনি সুদূর পশ্চিমের কোনও এক দেশের গায়ক৷ তবু তাঁকে নিয়েই এক সময় উত্তাল হয়েছিল এই বাংলা৷ যাঁরা হয়তো গোনাগুন্তি ইংরাজি গান শুনেছেন, তাঁদের তালিকাতেও রয়েছে ‘জামাইকা ফেয়ারওয়েল৷’ এ গান দেশে ফেরার গান, ঘরের মানুষের কাছে ফেরার গান৷ সেই গানের স্রষ্টা হ্যারি বেলাফন্তে মঙ্গলবার প্রয়াত হলেন৷ বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর৷ তাঁর মৃত্যুতে সঙ্গীতজগতে নক্ষত্রপতন৷ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই কিংবদন্তী শিল্পী প্রয়াত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মুখপাত্র৷
তাঁর সুর কণ্ঠে ধারণ করেছেন অনেকেই৷ তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাংলার রঞ্জনপ্রসাদ৷ বেলাফন্তের গান বাংলায় ভাষান্তর করে সাড়া ফেলেছিলেন তিনি৷ তবে বেলাফন্তে নামটাকে শুধুই সংগীতশিল্পীর বৃত্তে আবদ্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। তিনি যেমন কালো চামড়ার মানুষদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন, তেমনই এইডসের মতো অসুখের বিরুদ্ধে প্রচারেও এগিয়ে এসেছেন৷ গানের জগত ছাড়িয়ে তিনি অভিনয়ও করেছেন। তবে তিনি বিশ্ব দরবারে বন্দিত হয়েছে সংগীতশিল্পী হিসেবে। ‘জামাইকান ফেয়ারওয়েলে’র মতো গানের জন্য তিনি অমর হয়ে থাকবেন৷
১৯২৭ সালে নিউ ইয়র্ক শহরে জন্ম শিল্পীর। তবে তাঁর শৈশবের আটটা বছর কেটেছিল জামাইকা শহরে। পরে নিউ ইয়র্কে ফেরেন৷ কিন্তু, ডায়ালেক্সিয়ার সমস্যায় ভোগা বেলাফন্তে হাই স্কুলের পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। পেটের তাগিদে নানা রকম কাজ করেছেন। এর পর ১৭ বছর বয়সে তিনি যোগ দেন মার্কিন নৌসেনায়। সেই সময় গোটা বিশ্বকে গ্রাস করেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কালো মেঘ৷
যুদ্ধশেষে বেলাফন্তের মাথায় চাপে অভিনেতা হওয়ার জেদ। অভিনয় শেখার জন্য ভর্তিও হয়ে যান৷ সেই সঙ্গে শিখতে শুরু করেন গিটার। লোকগীতি থেকে পপ, জ্যাজ তাঁর কন্ঠে ঝড় তুলল৷ নিউ ইয়র্কের ক্লাবগুলিতে গান গেয়ে উপার্জন করতেও শুরু করেন। ধীরে ধীরে গান হয়ে উঠল তাঁর পরিচয়। গানেই এল খ্যাতি৷ ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম অ্যালবাম। দ্বিতীয় অ্যালবাম প্রকাশিত হওয়ার পর আর পিছনে তাকাতে হয়নি৷ তবে ইতিহাস রচিত হল তাঁর তৃতীয় অ্যালবামে। ক্যালিপসো গানের সেই অ্যালবামে ছিল জামাইকান ঐতিহ্যের ছোঁয়া৷ বেলাফন্তেই আমেরিকার প্রথম শিল্পী, যাঁর অ্যালবাম দশ লক্ষেরও বেশি বিক্রি হয়েছিল। গানের পাশাপাশি অভিনয়েও সাফল্যে পেয়েছিলেন বেলাফন্তে৷

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন